যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশের বিস্ময়

যুদ্ধবিধ্বস্ত এক বিরান জনপদ থেকে গেলো ৫০ বছরে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন আজ বিশ্বের বিস্ময়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন পৌঁছে গেছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও।

পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, নদীর তলদেশে টানেলসহ নানা চলমান নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন হবার পর পাল্টে যাবে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্কটময় অতীত।

গল্পটা এখন এমন। কে কবে ভেবেছে, বালু মাটির এই দেশেও একদিন আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, কিংবা জার্মানির মতো চলবে মেট্রোরেল। সেই স্বপ্নও এবার পূরণ হতে চলেছে।

শুধু কি তাই, বিশ্বের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী পদ্মাকে বশ মানিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে গর্বের পদ্মা সেতু। যা যুক্ত করেছে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিশাঞ্চলকে।

অথচ ৫০ বছর আগে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের পুঁজি ছিলো শুণ্য। ৯ মাসের যুদ্ধে বিধ্বস্ত হয় সব সড়ক, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবন।

রপ্তানিযোগ্য পণ্য ছিলো শুন্যের কোঠায়। অথচ বিশ্ব মোড়লদের তাচ্ছিল্যোর সেই তলাবিহীন ঝুড়ি আজ বিশ্বের বিস্ময়। উন্নয়নের রোল মডেল।

ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন সড়ক পাল্টে দিয়েছে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়া পর্যন্ত মহাসড়ক, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ, পাল্টে দিয়েছে যোগাযোগের বাধা।

বাস রেপিড ট্রানজিট বা বিআরটি, পায়রা নদীর ওপর পায়রা সেতু, ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেন্ট, ক্রস-বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট।

আরো আছে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেন, ঢাকা রংপুর-চারলেন। এতোসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এক অন্য বাংলাদেশের ছবি দেখবে বিশ্ব।

আরও পড়ুন: বুস্টার ডোজ হিসাবে দেয়া হবে ফাইজারের টিকা

তবে নগরকেন্দ্রিক পরিকল্পনার পাশপাশি প্রান্তিক মানুষদেরও এসব উন্নয়নের আওতায় আনার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। তাহলেই উন্নয়নের সুফল পৌছাবো সবার কাছে। দূর হবে বৈষম্য।

স্বাধীনতার ৫০ বছরে অনেক অর্জনই হয়তো এখনও অধরা। তবে নীতি পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা থাকলে ৪১ সালেই উন্নত বিশ্বের মর্জাদা পাবে বাংলাদেশ।  

 

একাত্তর/আরবিএস