র‌্যাবের জালে চাঁদাবাজ, দুর্ধর্ষ ডাকাত ও মানবপাচারকারি

শেষ রক্ষা আর হলো হলো না। র‌্যাব পরিচয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকা একটি চক্রকে র‌্যাবের হাতেই ধরা পড়তো হলো। 

অন্যদিকে রাজধানীতে দিনের বেলায় শ্রমজীবী থেকে রাতের বেলায় দুর্ধর্ষ ডাকাত বনে যাওয়া একটি চক্রও ধরা পড়েছে র‌্যাবের জালে। 

এছাড়া, রাজধানীতে মানবপাচার চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। যারা ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে ভারতে মানব পাচার করতো।

র‌্যাব পরিচয়ে চাঁদাবাজি, র‌্যাবের হাতেই ধরা

অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নৌ-বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন নাজমুল হোসেন ও নাহিদ হাসান। পরে নিজেরা গড়ে তোলেন র‌্যাবের একটি ভুয়া দল। 

র‌্যাবের পোশাক এবং খেলনা পিস্তল দিয়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পরে চক্রটি। শুধু চাঁদাবাজিই নয়, বড় ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলো তারা।

জমি নিয়ে বিরোধ মীমাংসা, বাড়ি দখল ও ঠিকাদারি পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে অর্থ হাতিয়েছে নিচ্ছিল তারা। 

কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না চক্রটি। গাজীপুরের কুনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির হোতাসহ পাঁচজনকে আটক করে র‌্যাব।

মঙ্গলবার ভোরের ওই অভিযানে আটকদের কাছ থেকে খেলনা পিস্তল, র‌্যাবের পোশাক, র‌্যাবের ভুয়া আইডি কার্ড, নৌবাহিনীর পোশাক, চাকু ও পাঁচ লাখ টাকার চেকও উদ্ধার করা হয়।

দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, চক্রের সদস্যরা র‌্যাব পরিচয়ে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখাতো। টাকার নিয়ে মানুষকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন বিচার সালিশের রায় নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতো।

তাছাড়া র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্য পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের জমি জায়গা, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগের সমাধানের নাম করে ভুয়া স্ট্যাম্পে সই নিতো।

দিনের বেলায় কর্মজীবী, রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাত

দিনের বেলায় বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থেকে রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাত বনে যাওয়া একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের মূলহোতাসহ দশজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সোমবার দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকার কাঞ্চনব্রিজ এলাকা থেকে মাইক্রোবাসসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।

তিনি বলেন, আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্যরা দিনের বেলায় বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকলেও সন্ধ্যায় ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

কর্নেল মোমেন জানান, চক্রের সদস্যরা দেশের ভিন্ন ভিন্ন জেলায় বসবাস করে। ডাকাতির পূর্বে তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে একত্রিত হতো।

ছদ্মবেশে ব্যাংক, স্বর্ণের দোকান, শিল্পকারখানার বাইরে অবস্থান করে ২/৩ জন ভেতরে প্রবেশ করে এবং মূল দলটি মাইক্রোবাসসহ সুবিধাজনক স্থানে অপেক্ষা করতে থাকে।

এই চক্রের সদস্যরা একে অপরের যোগসাজশে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ইতোপূর্বে ১১টি ডাকাতি করেছে। তাদের সবার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি মামলা রয়েছে।

ইউরোপ পাঠানোর কথা বলে ভারতে পাচার 

রাজধানীতে মানবপাচার চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। পল্লবী ও উত্তরা থেকে সোমবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এরা হলেন, চক্রের মূলহোতা মল্লিক রেজাউল হক ওরফে সেলিম (৬২) ও তার দুই সহযোগী নিরঞ্জন পাল (৫১) ও মো. বুলবুল আহমেদ মল্লিক (৫৫)।

মঙ্গলবার দুপুরে কারওয়ান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, ভারতে নিয়ে ভিকটিমদের প্রথমে সেফ হাউজে রাখা হতো। তারপর তাদের ওপর চলতো অমানবিক নির্যাতন। 

এসব নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে বাংলাদেশ থাকা ভিকটিমদের পরিবারকে পাঠাতো চক্রটি। ভিডিও দেখিয়ে বলতো, ১২-১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ না দিলে ভিকটিমকে মেরে ফেলবে।

পরে ভিকটিমদের পরিবারগুলো প্রিয়জনকে বাঁচাতে সর্বস্ব বিক্রি করে চক্রটির সদস্যদের হাতে টাকা তুলে দিতো। এভাবে চক্রটি শতাধিক ব্যক্তিকে ভারতে পাচার করেছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, গত বছরের নভেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর কথা বলে জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তিকে ভারতে পচার করে চক্রটি। 

পাচার হয়ে যাওয়ার পর বেশ কিছুদিন কলকাতায় আটক থাকে জাহাঙ্গীর। আটক অবস্থায় কলকাতার টর্চার শেলে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। 

পরে নির্যাতনের এসব ভিডিও দেখিয়ে দেশে থাকা তার পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করে অর্থ আদায় করে পাচারকারীরা। 

দেশে এসে ভিকটিম জাহাঙ্গীর চক্রটির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে আমাদের কাছে। তার দেয়া তথ্য যাচাই করে এই চক্রের মূলহোতাসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।