ঢাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাইক নিবন্ধন বেড়েছে কয়েকগুণ

অসহনীয় যানজটে নাকাল নগরবাসী। বিআরটিএ বলছে বছরের শুরু থেকেই ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরবাইক রেজিস্ট্রেশনের হার বেড়েছে কয়েকগুণ। 

সেই সঙ্গে নগরজুড়ে চলছে নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। এসব কারণে যখন রাস্তার সীমানা কমছে, তখন নতুন নতুন গাড়ি অনুমোদন দেয়াকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলছেন বিশেষজ্ঞরা। 

যানজটে ভরা এই নগরীতে আধ ঘন্টা সময় হাতে নিয়ে বের হওয়া যে নিতান্তই দিবা স্বপ্ন তার প্রমাণ পাওয়া যায় কিছুক্ষণ পর চরম বাস্তবতায়। 

আরও পড়ুন: টিসিবির পঁচা পেঁয়াজ নিয়ে ক্ষোভ, ট্রাকের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি

গুগল ম্যাপ বলছে, রাজপথ জুড়ে চলছে অচলাবস্থা। করোনাকালের আগে কেবল সকাল-বিকাল অফিসের সময়টুকুতেই থাকতো যানজট। কিন্তু এখন থাকে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত।

অনেকেরই আগ্রহ বেড়েছে রাইড শেয়ারিং গাড়ি কিংবা বাইক ব্যবহারে। অনেকে আবার নানা ছাড় পেয়ে নিজেই কিনে নিয়েছেন এসব বাহন। 

ফলে যানজটের বড় অংশ জুড়ে থাকছে ব্যক্তিগত গাড়ি আর মোটরসাইকেল। আর দিনকে দিন এই দুই চাকার দাপট রাজপথে বেড়েই চলছে। 

বুধবার (২৩ মার্চ) বিআরটিএতে গিয়ে দেখা গেলো যেন ব্যক্তিগত গাড়ি আর বাইক নিবন্ধনের মেলা বসেছে সেখানে। শত শত মানুষ অপেক্ষায় আছেন যান নিবন্ধনের জন্য।

বিআরটিএ’র পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী বলছেন, করোনাকালে গেলো দুই বছরে ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাইক নিবন্ধন কম হলেও, এ বছরের শুরুতেই তা অনেক বেড়েছে। 

করোনার দুই বছর ও চলতি বছরের প্রথম দুমাসে সারাদেশে ৩১ হাজার ৫৭৫টি ব্যক্তিগত গাড়ি নেমেছে। সেই হিসাবে প্রতি মাসে ১,২০০–এর বেশি গাড়ির নিবন্ধন দিয়েছে বিআরটিএ।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, রাস্তা যখন বাড়ছে না বরং মেট্রোরেলসহ নানা উন্নয়নকাজে কমছে রাস্তার সীমানা, তখন এভাবে গাড়ি-বাইক বাড়ানো ভুল সিদ্ধান্ত।

এমন অবস্থা চলতে থাকলে রমজানে কি অবস্থা দাঁড়াবে সেটা ভাবতেই শঙ্কিত রাজধানীবাসী। কারণ তারা ভালো করেই জানেন, সহসাই যানজট নিরসনে মিলছে না কোন বিকল্প।


একাত্তর/এআর