১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার অপেক্ষা। নিজের জায়গা ধরে রাখতে পাশের জনের সাথে বাকবিতণ্ডা। প্রচণ্ড গরমে সাথে লড়াই শেষে অসুস্থতা।
নিয়ম মানাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দৌড়ঝাঁপ। এ যেন যুদ্ধক্ষেত্র। বলা হচ্ছে, প্রতি বছর সোনার হরিণ হয়ে ওঠা ট্রেনের টিকেটের কথা।
একটি টিকেট পাওয়া মানে যুদ্ধ জয় করা। আর সেই যুদ্ধে নামা যাত্রীরা বলছেন, এটা ঈদযাত্রা নয়, ঈদ ভোগান্তি। প্রতি বছর যে ভোগান্তির চিত্র একই রকম।
গায়ে গা লাগিয়ে এমন অপেক্ষা, মানুষের চাপাচাপিতে অসহনীয় পরিস্থিতি জানান দিচ্ছে ঈদ এসে গেছে। তবে অপেক্ষমাণ মানুষের চোখমুখে নেই ঈদের আনন্দ, আছে শঙ্কা আর বিরক্তি।
রোববার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা গেলো। রাজধানীতে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি হলেও এখানে অনুভূত হচ্ছে ৪২।
লাইনের সামনে যাবার তাড়া আর হাজারো মানুষের ভিড়, পুরো কাউন্টার এলাকায় অসহনীয় পরিবেশে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই।
প্রতি বছর কমলাপুর স্টেশনের ঈদের আগাম টিকেট নিয়ে দৃশ্যপটের কোন পরিবর্তন হয় না। উন্নয়ন, ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া এখানে পৌঁছায় না বললেই চলে।
করোনার বিধিনিষেধ এবার নেই, যাত্রীদের চাপও তাই বেশি। ১৬টি অন্তঃনগর ট্রেনের প্রায় ছয় হাজার টিকেট পাওয়া যাবে এ স্টেশনে।
কিন্তু টিকেট প্রত্যাশী মানুষের সংখ্যা তো কয়েকগুণ। তাই চার ঘণ্টাতেই টিকেট শেষ। ফলে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা আগে এসেও টিকেট পাননি অনেকেই।
আরও পড়ুন: এবারে ঈদযাত্রায় সড়কে ভোগান্তি কমবে: সচিব
ঈদ এলেই নগরীর মানুষ গ্রামে ছুটবে, এটা কারো অজানা নয়। তাহলে ভোগান্তি দূর করতে কি করলো কর্তৃপক্ষ, এমন প্রশ্নের জবাবে শুধু আসন সংখ্যা বাড়ানো ছাড়া আর কোন উত্তর নেই।
আর সেই টিকেটর জন্য আরো বেশি মানুষের ভিড় জমবে মধ্যরাত থেকেই। যথারীতি তাদের সবারই সকালটা শুরু হবে রীতিমতো একটা যুদ্ধ দিয়ে।
একাত্তর/এসি