নিউমার্কেটের সংঘর্ষে কুরিয়ার সার্ভিস কর্মী নাহিদ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা কলেজের ৫ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আব্দুল কাইয়ুম, পলাশ মিয়া, ইরফান, ফয়সাল ইসলাম ও জুনায়েদ। তারা নাহিদ হত্যায় জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ডিবি প্রধান।
অপরদিকে মুরসালিন হত্যার বিষয়ে তেমন কোনো অগ্রগতি না থাকলেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার মৃত্যু হয়েছে ইটের আঘাতে।
সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ আক্তার জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া সন্দেহভাজন রাব্বী ও ইমনের বিষয়ে এখনো স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারবেননা তারা। তবে তাদের গ্রেপ্তার করলে জানা যাবে তারা এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত কিনা।
তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ এনালাইসিস করে দেখা গেছে নাহিদ এ সংঘর্ষে ব্যবসায়ীদের পক্ষে অংশ নিয়েছিলেন। সে ছাতা নিয়ে এগিয়ে যায়। পরে ছাত্রদের পক্ষ থেকে কয়েকজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তার মৃত্যু হয়ে। এ ঘটনায় কলেজের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা সবাই হেলমেট পড়ে ছিলেন। তারা পাঁচজন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই হত্যার সাথে জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে, কার কি ভূমিকা তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে জানান হাফিজ আক্তার।
তিনি জানান, ইমনের সাথে কথা বলা হলেও তার বিষয়ে এখনো শক্ত কিছু পাইনি আমরা।
তদন্ত চলাকালে গুজবে কান না দেয়ার পরামর্শও দেন তিনি। রিমান্ডে নিয়ে এসে তারা অস্ত্র কেন বহন করেছিলো, উদ্দেশ্য কি ছিলো তা বের করা হবে।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউ মার্কেটের দোকানকর্মী ও ব্যবসায়ীদের কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন দোকান কর্মচারী মোরসালিন (২৬)। অপরজন কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারিম্যান নাহিদ হাসান (২২)।
আরও পড়ুন: বিএনপির রক্তের সঙ্গে মিশে আছে বিশ্বাসঘাতকতা: কাদের
প্রসঙ্গত, সোমবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। যা চলে ২১ এপ্রিল প্রথম প্রহর পর্যন্ত। পরে চার ঘণ্টার বৈঠক শেষে সমঝোতা হয় দুইপক্ষের।
এ সংঘর্ষে মোট চারটি মামলা হয়েছে। যার দুইটি করেছে পুলিশ, দুইটি নিহতদের পরিবার।
একাত্তর/আরএ