রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকা সুমন শেখের মৃত্যুর সময়কার সিসিটিভিতে ধারণ করা ফুটেজ এসেছে একাত্তরের হাতে।
এই ভিডিওতে দেখা যায়, শুক্রবার (১৯ আগস্ট) রাত ৩টা ৩১ মিনিট থেকে ৩টা ৩৮ মিনিটের মধ্যে সুমন নিজের পরা ট্রাউজার গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
হাতিরঝিল থানার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টা ৩৬ মিনিটে সুমন শেখকে নিয়ে থানায় আসে পুলিশ। তাকে হাতকড়া পরিয়ে থানার ভেতরে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এরপর রাত ৭টা ৫০ মিনিটে সুমনকে নিয়ে থানার বাইরে যায় পুলিশ। তারা বলছেন, ইউনিলিভার থেকে চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারের জন্য সুমনকে নিয়ে তারা অভিযানে যান।
এর চার ঘণ্টা পর রাত ১১টা ছয় মিনিটের দিকে সুমনকে নিয়ে থানায় ফিরে আসে পুলিশ। এসময় সুমনকে বেশ স্বাভাবিকভাবেই থানার ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়।
আর রাত তিনটা ৩১ মিনিট থেকে ৩৩ মিনিট পর্যন্ত সুমন হাজতখানার গেট দিয়ে বাইরে বারবার দেখছিলেন কেউ আছে কিনা। হাজতখানার সামনে কেউ নেই এটি নিশ্চিত হয়ে সুমন তার পরনে থাকা ট্রাউজার নিয়ে গেট বেয়ে ওপরের দিকে উঠে যান।
এসময় তাকে খেতে দেয়া রুটির লাল রংয়ের পলিথিনটি মুখে গুজে রাখেন সুমন। তিনটা ৩৬ মিনিটের দিকে আবার পলিথিন বের করেন তিনি। এরপর ট্রাউজার ওপরের গ্রিলের সাথে বেঁধে মুখে রুটির প্যাকেট ঢুকিয়ে ফাঁসে ঝুলে পড়েন সুমন শেখ।
আরও পড়ুন: বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীরের সাত মামলায় আগাম জামিন
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুইবার গলার কাছে হাত উঠিয়েছিলেন সুমন। কিন্তু এক পর্যায়ে নিজের তৈরি ফাঁস আর গলা থেকে ছোটাতে পারেননি। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষে হয়েছে মাত্র সাত মিনিটে, রাত তিনটা ৩৮ মিনিটের দিকে।
এদিকে, সুমনের মরদেহ মর্গ থেকে গ্রহণ না করে আন্দোলন করে যাচ্ছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী। রোববার (২১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর রামপুরা সড়ক অবরোধ করেন তারা।
একাত্তর/এসজে