খ্যাতনামা ভারতীয় ডাক্তারের নামে ক্লিনিক খুলে ব্যবসা করলেও, সেই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ওই ডাক্তারের কোন সম্পর্কই নেই। অথচ গেলো চার বছর ধরে রোগীদের সঙ্গে এমন প্রতারণাই করে আসছিলো রাজধানীর বনানীতে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট ও কসমেটিক সার্জারি সেন্টার।
কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না।
সোমবার (২৯ আগস্ট) সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযানে বন্ধ করে দেয়া হয় এই চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানটিকে। এদিন রাজধানীতে অনুমোদন ছাড়াই চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর ছয়টি এলাকায় অভিযান চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এ সময় বনানীতে দুটি, লালবাগে দুটি, খিলগাঁও এলাকায় দুটি এবং যাত্রাবাড়ী এলাকায় দুটি ক্লিনিক ও হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এই অভিযানে। এর মধ্যে আছে বনানীর হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট অ্যান্ড কসমেটিক সার্জারি সেন্টারও।
ভারতের স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. মনোজ খান্নার নামে ক্লিনিক খুলে রোগীদের সাথে প্রায় চার বছর ধরে প্রতারণা করে আসছিলো প্রতিষ্ঠানটি। অথচ ডা. মনোজের সঙ্গে তাদের চুক্তি ছিলো মাত্র তিন মাসের। তাঁর নাম দেখেই এখানেই ছুটে আসতেন রোগীরা।
অথচ তারা জানতেনও না যে, ডা. মনোজ খান্না এই হাসপাতালের সঙ্গে কোনভাবেই জড়িত নন। লাইসেন্সহীন এই ক্লিনিকে একটি অপারেশন থিয়েটার থাকলেও ছিলো না কোন ওটি চিকিৎসক বা এনেসথেশিয়ার ডাক্তার। নার্সরাই চুল প্রতিস্থাপনের কাজ করছিলেন।
যারা অপারেশন করতেন তাদের কেউ ডাক্তার বা সনদধারী কোন স্বাস্থ্যকর্মীও নন। দুপুরে বনানীর ১১ নম্বর সড়কের ১০৫ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট অ্যান্ড কসমেটিক সার্জারি সেন্টারে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের অভিযানে বেরিয়ে আসে এমন সব অনিয়ম।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, ক্লিনিকে ভারতের একজন বিখ্যাত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। এক সময় তিনি এখানে আসতেন, কিন্তু এখন আসেন না। তার নাম ব্যবহার করে নিজেরাই চিকিৎসা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এখানে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও সেটা পরিচালনার মতো কেউ নেই। এ কারণে ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা অনেকবার বলেছি, এগুলো করা উচিত না, করবেন না। কিন্তু তারা যেহেতু শোনেননি, এ কারণে আমরা নিজেরাই মাঠে নেমেছি।
সকাল থেকেই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে এমন অবৈধ হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাতটি দল একযোগে অভিযানে নামে।
সারাদেশের সবগুলো জেলায় সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে চলে অভিযান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সারাদেশে কমপক্ষে চার হাজার অবৈধ ক্লিনিক ও হাসপাতাল আছে। এই অভিযানে তাদের নিবন্ধন নেয়ার সময় বেঁধে দেয়া হবে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে হাসপাতালগুলোর সেবার মান অনুযায়ী সেগুলোকে এ, বি ও সি- এই তিন শ্রেণীতে ভাগ করে তা জনগণকে জানিয়ে দেয়া হবে।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযানে আরও যেসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, সেগুলো হলো- বনানীর ঢাকা পেইন অ্যান্ড স্পাইন সেন্টার, খিলগাঁওয়ের খিলগাঁও জেনারেল হাসপাতাল ও সেন্ট্রাল বাসাবো জেনারেল হাসপাতাল, মাতুয়াইলের কনক জেনারেল হাসপাতাল, শনির আখড়ার সালমান হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বকশিবাজারের খিদমাহ লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চানখাঁরপুলের ঢাকা জেনারেল হাসপাতাল। এই অভিযান বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মে থেকে অনুমোদনহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এক মাস ধরে চলা সেই অভিযানে এক হাজার ৬৪১টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
একাত্তর/এআর