বঙ্গভ্যাক্স টিকার এক ডোজ করোনা ঠেকাতে পারে: যুক্তরাষ্ট্রের জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত মেডিকেল জার্নাল 'ভ্যাকসিন'-এ প্রকাশিত হল গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড আবিষ্কৃত বিশ্বের প্রথম এক ডোজের rnRNA টিকা ‘বঙ্গভ্যান্স’র গবেষণাপত্র। 

বুধবার (১৯ মে) প্রতিষ্ঠানটি পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায় বঙ্গভ্যাক্স mRNA প্রযুক্তিতে তৈরি বিশ্বের প্রথম এক ডোজের কার্যকরী টিকা যা SARS-CoV-2 ভাইরাসের বিরুদ্ধে সফলভাবে মানব কোষ এবং প্রাণীদেহে সুদৃঢ় সুরক্ষা তৈরি করতে পারে। 

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিশ্বের বিখ্যাত টিকা আবিষ্কারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড নিজস্ব প্রযুক্তিতে 'বঙ্গভ্যাক্স' তৈরি করেছে।

ড. কাকন নাগ এবং ড. নাজনীন সুলতানার নেতৃত্বে তরুণ বিজ্ঞানীদের একটি চৌকস দল এই টিকাটি নিয়ে কাজ করছেন। এই গবেষকেরা জানিয়েছেন, তাদের আবিষ্কৃত এই ভ্যাকসিনটি ভাইরাসের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা দিতে সক্ষম। 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অন্যান্য mRNA ভ্যাকসিনের তুলনায় এই ভ্যাকসিনটির দাম হবে অনেক কম। ফলে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলির সহজে টিকাটি ক্রয় করতে পারবে। আবার এক ডোজ টিকা হওয়ায় অন্যান্য টিকার তুলনায় এটি ক্রয়ের জন্য ব্যয় এবং প্রয়োগে সময় সাশ্রয়ী হবে অনেক।

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) গত বছর মধ্য অক্টোবরে গ্লোব বায়োটেকের mRNA vaccine'কে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। পরবর্তীতে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর গত বছর ডিসম্বরেরে শেষের দিকে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য 'বঙ্গভ্যাক্স' উৎপাদনের অনুমতি প্রদান করেন।

গ্লোববায়োটেক জানায়, এই টিকাটি +৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এক মাস এবং -২০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ছয় মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। এছাড়া টিকাটি সিন্থেটিক্যালি তৈরি হওয়ায় তা শতভাগ হালাল। 

উল্লেখ্য বর্তমানে গ্লোব বায়োটেকের উৎপাদন কেন্দ্রে প্রতিমাসে ১ কোটি ডোজ টিকা তৈরি করার সক্ষমতা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে টিকাটি মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নৈতিক অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলে (বিএমআরসি)'তে জমা দেয়া হলেও বিএমআরসি'র পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


একাত্তর/এআর