ঢামেকে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অস্ত্রপচারে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ

ঢামেক হাসপাতালে রোগীর অপারেশনের জন্য গলায় স্ক্রু লাগানোর কথা বলে ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. পীযূষ কান্তি মিত্রের বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী রোগীর ছেলে শেখ আজিমুল হাকিম হাসপাতাল পরিচালক ও কলেজ কর্তৃপক্ষের বরাবর বিচার চেয়ে আবেদন করেছেন।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতালের সহকারী উপ-পরিচালক প্রশাসন আশরাফুন নাহার।

তিনি জানান, আমরা অভিযোগটি পেয়েছি, বিষয়টি তদন্তাধীন। বলেন, ‘এ বিষয়ে যা কিছু জানতে চান, তা পরিচালকের কাছে জানবেন।’ 


অভিযোগকারী মতিঝিল এজিবি কলোনির বাসিন্দা আজিমুল হাকিম বলেন, তার বাবা মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৫) অত্র হাসপাতালে গত ৭/৭/২০২২ হইতে  নিউরোসার্জারি বিভাগে ৩০/৮/২০২২ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন। যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ৩৮৭০২/১৮২।

তিনি বলেন, গত ১৭ আগস্ট অপারেশন, চিকিৎসক ডা. পিজুস জানান, আমার বাবার ঘাড়ের অপারেশনের জন্য স্ক্রু লাগবে, তার জন্য ৩৫ হাজার প্রয়োজন। সেভাবেই তিনি অপারেশন শেষে ৩৫ হাজার টাকা নিয়েও নেন। ‘মনির সার্জিক্যাল’ নামে একটি মানি রিসিট দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, অপারেশনের পর ঘাড়ের এক্স-রে করে দেখতে পাই যে, সেখানে কোন স্ক্রু লাগানো হয়নি।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাহুল গান্ধীর সাক্ষাৎ

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার বাবার ঘাড়ে স্ক্রু লাগানোর কথা বলে না লাগিয়ে অন্যায়ভাবে ঐ চিকিৎসক টাকা হাতিয়ে নিয়ে দুর্নীতি করেছেন, আমি তার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার দাবি করছি।

তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি গত ৪ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে হাসপাতাল পরিচালক ও কলেজ প্রিন্সিপালের বরাবর বিচার চেয়ে আবেদন করেছি।

হাসপাতালের আরেকটি সূত্র থেকে জানা গেছে ঐ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য দুদুকে একটি মামলা চলমান রয়েছে।


এর আগে হাসপাতালের নারী কর্মচারীকে কু-প্রস্তাব দেয়ায়, ঐ নারীর কর্মচারীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। যা নিউরোসার্জারী বিভাগের সকল কর্মচারী-কর্মকর্তারা অবগত।

ঐ বিভাগের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক শর্তে জানান, অনেক রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে অপারেশন করিয়ে দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নাম করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে থাকেন অভিযুক্ত। হাসপাতালে অভিযোগ দেয়া হলেও তা তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করা হয়। আর সেই সুবাদে তিনি একের পর এক এ রকম কর্মকাণ্ড করেই যাচ্ছেন।


একাত্তর/আরএ