সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি লঘুচাপে পরিণত হলেও এর প্রভাবে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা পেরিয়ে শরতে এমন বৃষ্টিতে নাজহাল কর্মজীবী মানুষেরা।
আগের দিন রাত থেকে শুরু হওয়া থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে রাজধানীতেও। এতে জনজীবনে নানা ভোগান্তিতে আরও অসহনীয় করে তুলেছে প্রধান প্রধান সড়কের যানজট।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অফিসগামীরা পড়েন বিপাকে। বৃষ্টি আর যানবাহন সংকটে পড়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের।
বৃষ্টির কারণে সময় মতো মেলেনি অফিসগামী পরিবহন। ফলে রিকশা কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়তি ভাড়া গুণেও সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি অনেকেই।
তবে দিন গড়িয়ে রাত হলেও তীব্র যানজট থেকে মুক্তি মেলেনি রাজধানীবাসীর। গুগল ম্যাপে দেখা যাচ্ছে নগরীর বেশিরভাগ সড়কই স্থবির হয়ে আছে কঠিন যানজটের কারণে।
সামাজিক মাধ্যমগুলোতে আসছে ভোগান্তির নানা ধরনের পোস্ট। অনেকেই সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার যানজটের চিত্র তুলে ধরে পোস্ট দিচ্ছেন।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে বিমানবন্দর সড়কের যাত্রীরা। টঙ্গীর চেরাগ আলী মার্কেটের আশেপাশের এলাকায় সড়কে বৃষ্টির পানি জমায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সেখাননে রাজধানীর প্রবেশদার হিসাবে খ্যাত আব্দুল্লাহপুর মোড়ে রয়েছে গণপরিবহণের তীব্র চাপ। এই মোড়ে সারি সারি বাস সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
উত্তরা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কেও রয়েছে যানজট। খিলক্ষেত থেকে কুড়িল, নতুনবাজার, বাড্ডা হয়ে রামপুরা-মালিবাগমুখী সড়কে ধীরে চলছে যানবাহন।
খিলক্ষেত থেকে রেডিসনের সামনে দিয়ে বনানী-কাকলী, মহাখালী হয়ে সাতরাস্তা, মগবাজার হয়ে রমনা, গুলশান-১ ও ২ নম্বর সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
মহাখালী এলাকায় গণপরিবহনে থাকা এক যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, যানজট প্রতিদিনের চিত্র। বৃষ্টিতে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এতে ভাদ্র মাসের অসহনীয় গরম কিছুটা হলেও কমেছে।
যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও প্রাইভেট কার বেড়ে যাওয়াকে যানজটের বড় কারণে হিসাবে দেখছেন নগরবাসী। বিভিন্ন সড়কের পাশে ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং করে রাখা হচ্ছে।
ট্রাফিক পুলিশ বলছে, যানবাহন চালকেরা সঠিক নিয়ম মেনে চলাচল করে না। তাছাড়া সড়কে চলাচলে যাত্রী-পথচারী কেউই আইন মেনে চলে না। তাই যানজট সমস্যা কমছে না।
একাত্তর/এআর