হাওর রক্ষায় নদী খননের সুপারিশ বিশেষজ্ঞদের

হাওরের সম্পদ রক্ষায় নদীগুলো খনন করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। নদী ও খালবিলের পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণেই হাওরাঞ্চলে বন্যা বাড়ছে। দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ। এক সেমিনারে, হাওরের মাছ সংরক্ষণে জলমহাল ইজারা দেয়া বন্ধের সুপারিশও করেন বিশেষজ্ঞরা। 

চলতি বছর পরপর দুবার বন্যার দুর্ভোগে আর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে হাওড়বাসী। চেরাপুঞ্জিতে ৫০ বছরের রেকর্ড বৃষ্টিপাতও এবার বন্যার কারণ। 

উজানের সুরমা-বাউলাই-ধনু নদীর পানি সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ হয়ে মেঘনায় প্রবাহিত হয়। কিন্তু মেঘনার তলদেশে ঢাল কম থাকায় আগের মতো পানি নামতে পারছে না। 

হাওরের বন্যা ও সম্পদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) সভাকক্ষে এক সেমিনারে এনিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। 

সেমিনারে বক্তারা বলেন, স্থায়ী বাঁধ কোন সমাধান নয়। বরং নদী খননই সমাধান। হাওরের পানি ধারণ-ক্ষমতা বৃদ্ধি করে হাওরের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের সমাধানের উপায় হচ্ছে ডেজিং।

সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক বলেন, হাওরের মানুষ সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে। হাওরে ঝড়, বন্যা, খরা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। 

যেহেতু প্রকৌশলীরা হাওর নিয়ে কাজ করছেন, সেহেতু হাওরের ভবিষ্যৎ ভাল। উন্নয়নের কারণে হাওরে যদি বন্যা হতো তাহলে ১৯৭৪, ১৯৯৮, ২০০৪ সালে হাওরে বন্যা কেন হয়েছিল? 

হাওরে যত্রতত্র বাড়ি ঘর বানাচ্ছে। পরিকল্পনাবিহীন বাড়ির ঘর নির্মাণের ফলে বন্যা হয়। এই বন্যা বা দুর্যোগ থেকে বাঁচতে হলে নদীর তলদেশ খননে মনোযোগ দিতে হবে। 

বন্যার আগেই ফসল ওঠে এমন জাতের ধানবীজ লাগানোর পরামর্শও উঠে আসে। অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে হাওরের অনেক মাছ এখন বিলুপ্ত। তাই ইজাড়া বাতিলের সুপারিশ করা হয়। 

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, হাওরের সমস্যা একমাত্র হাওরবাসিই ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারে। হাওরের ফসলের ওপরই দেশের খাদ্যশষ্যের মূল্য নির্ভর করে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ৭ জেলার ৬৯ উপজেলায় ৩৭৩ হাওর দুর্যোগপুর্ণ এলাকা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একসময় ছিল যখন হাওরবাসি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হলে বলতো বাঁধ চাইনা ভাত চায়। এখন প্রেক্ষাপট ভিন্ন এখন হাওরবাসি বলে ভাত চাইনা বাঁধ চায়।

সেমিনারে পরিকল্পনামন্ত্রী আবদুল মান্নান বলেন, হাওর তার ইতিহাস ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। আগে হাওরে মাছ ধরা একটা ঐতিহ্য ছিল এখন তা নেই। হাওর প্রাকৃতিক প্রয়োজনেই সৃষ্টি। হাওরের সমস্যাগুলো অভিযোজন করেই আগাতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা হাওরকে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। হাওরের সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সজাগ আছেন। হাওর নিয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তাদেরই কাজ করার সুযোগ করে দিতে আমরা সচেষ্ট আছি।

সেমিনারে উভয় সেশনে ‘হাওরে বন্যা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা’র উপর পেশাজীবি, বিশেষজ্ঞ, সংস্থা-প্রধান, সরকারি-বেসরকারি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিগণ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা, নির্ধারিত প্রবন্ধ উপস্থাপন, মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।

প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ফজলুর রশিদ, নির্বাহী পরিচালক মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া, সিইজিআইএসের নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আবদুল্লাহ খান। সেশনগুলো পরিচালনা করেন আমিরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান খান।

আইইবি'র টাস্ক ফোর্স অন ওয়াটার সেক্টরের সভাপতি প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, সিজিআইএস’র নির্বাহী প্রকৌশলী ফিদা আবদুল্লাহ খান।


একাত্তর/এআর