তোয়াব খানের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন সবস্তরের মানুষ

প্রয়াত দেশবরেণ্য সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা তোয়াব খানকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা ও বিদায় জানিয়েছেন সবস্তরের মানুষ। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এবং সবস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে ফুলেল ভালোবাসায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। 

সোমবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামের উপস্থিতে বিশিষ্ট সাংবাদিক তোয়াব খানের মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এ সময় তার মরদেহ জাতীয় পতাকায় মুড়ে দেওয়া হয়।

এরপর সাংবাদিক তোয়াব খানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর কার্যালয়ের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সহকারী সামরিক সচিব জিএম রাজিব আহমেদ, আওয়ামী লীগের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ সময় তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেন, তোয়াব খানের হাত ধরে এ দেশের সাংবাদিকতা ভিন্নমাত্রা পায়। সামাজিক শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে এবং রাষ্ট্রকে সঠিক দেখাতে একটি পত্রিকা কীভাবে ভূমিকা পালন করতে পারে তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরেণ্য এই সাংবাদিক।


ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, তোয়াব খান বাংলাদেশের সাংবাদিকতা পেশাকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। সাংবাদিক-সম্পাদক হিসেবে তোয়াব খান ছিলেন নিভৃতচারী। ডানে বা বামে কোনোদিকে কখনোই ঝুঁকে পড়েননি তিনি।

তিনি বলেন, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু কখনোই তা সাংবাদিকতা-সম্পাদনা পেশাকে ছাড়িয়ে উচ্চকিত হয়ে ওঠেনি। তার জীবন ও কর্ম থেকে এই শিক্ষাটা নেয়া জরুরি যে, রাজনীতির প্রতি পক্ষপাত থাকলেও কীভাবে তাকে আড়ালে রাখতে হয়।

এ সময় প্রখ্যাত সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, ভবিষ্যতে তোয়াব খানকে শুধু একটি দিনে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে নয়, তার কর্মের ভেতর দিয়ে তাকে আবিষ্কার করতে হবে, গ্রহণ করতে হবে এবং বরণ করতে হবে, ধারণ করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, আজকে বাংলাদেশ একটি দিকে তাকিয়ে আছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত হতে দেওয়া যাবে না। একটি বিষয় সবাইকে মনে রাখতে হবে, আমাদের তরুণ প্রজন্ম যারা আসছে তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার সময় এখনই।

সকালে বৈরী আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে আপাদমস্তক সাংবাদিক হিসাবে খ্যাত তোয়াব খানকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় শহীদ মিনারে এসেছিলেন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় অনেকেই স্মৃতির পাতাতেও ডুব দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: তোয়াব খান নীরবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন: কাদের

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সবার শ্রদ্ধা জানানো শেষে তোয়াব খানের মরদেহ নেয়া হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবে। সেখানে দুপুর ১টায় প্রেসক্লাবের টেনিস গ্রাউন্ডে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে চিরদিনের জন্য প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ ছাড়লেন নিভৃতচারী এই সাংবাদিক। 

এর আগে তার প্রথম জানাজা সকাল ১০টায় তেজগাঁওয়ের দৈনিক বাংলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আছর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা তোয়াব খান। 


একাত্তর/এসজে