রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সাইবার পর্নোগ্রাফির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
বুধবার (৯ নভেম্বর) রাতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সিটি-সাইবারের এডিসি নাজমুল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মো. আব্দুল হালিম (১৯), মোজাহিদ (২২) এবং মো. আব্দুল্লাহ (১৮)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও আটটি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
সিটিটিসি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং টেলিগ্রাম ব্যবহার করে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও বিক্রি করার বিজ্ঞাপন প্রচার করে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষকে প্রলুব্ধ করতো। বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায় মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস ব্যবহার করে অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতো তারা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা চাইল্ড পর্নোগ্রাফিক ভিডিওসহ সব ধরনের পর্নোগ্রাফিক ভিডিও ক্লাউড স্টোরেজ মেগা নামক সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরবরাহ করে আসছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে বিপুল পরিমাণ পর্নোগ্রাফিক ভিডিও কন্টেন্ট পাওয়া যায়। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত পর্নোগ্রাফিক ভিডিও কন্টেন্ট ইন্টারনেটের ডার্ক ওয়েব থেকে সংগ্রহ করা।
সিটিটিসি জানায়, গ্রেপ্তার মো. আব্দুল্লাহ ডার্ক ওয়েব থেকে চাইল্ড পর্নোগ্রাফিক ভিডিও, বিভিন্ন ধরণের অ্যাবিউসিভ ভিডিও সংগ্রহ করে অনলাইন ক্লাউড স্টোরেজ মেগা ব্যবহার করে অন্যদের কাছে অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করতেন। তিনি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও একই পদ্ধতিতে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও সরবরাহ করে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতেন।
এছাড়া গ্রেপ্তার মোজাহিদ এবং মো. আব্দুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং টেলিগ্রাম ব্যবহার করে উঠতি বয়সের তরুণ ও যুবকদের টার্গেট করে এসব পর্নোগ্রাফিক ভিডিও কন্টেন্ট বিক্রয় করছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, তারা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস অ্যাকাউন্ট খুলে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করতো। সব মিলে এভাবে তারা ১৫-২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের ছেলে রাফাতসহ দুইজন রিমান্ডে
এ বিষয়ে রমনা মডেল থানায় মামলা রুজু হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটিটিসি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
সিটি-সাইবারের এডিসি নাজমুল জানান, অভিযুক্তদের কাছে বেশ কিছু শিশু পর্নোগ্রাফির কন্টেন্ট পাওয়া গেছে। তাদের সাথে আরও অনেকেই জড়িত আছে এবং জড়িতদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে।
একাত্তর/এসজে