ওমিক্রন থেকেও চার গুণ বেশি সংক্রামক বিএফ-৭

করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন বিএফ- সেভেন ওমিক্রনের প্রথম দিকের উপধরনগুলোর থেকে চার গুণ বেশি সংক্রামক বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কারণ এটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পরতে পারে। 

ওমিক্রনের এই উপধরনের বিস্তার ঠেকাতে চার দফা সুপারিশ দিয়েছে কোভিড বিষয়ক জাতীয় কারিগরি কমিটি। এখনও টিকা না নেয়াদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

সম্মুখসারিতে কাজ করা পেশাজীবি, ষাটোর্ধ জনগোষ্ঠী ও গর্ভবতী নারীদের বুস্টার ডোজে দেয়া এবং বিমান ও স্থলবন্দরে সন্দেহজনক যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ওমিক্রনের নতুন একটি উপধরণ। যার নাম দেয়া হয়েছে বিএফ সেভেন। প্রতিবেশী ভারতেও এই ধরণে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।

এই পরিস্থিতিতে কী ধরনের সতর্কতা নেবে বাংলাদেশ, তা ঠিক করতে রোববার সকালে জরুরি বৈঠক ডাকেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত এই বৈঠকে চারদফা নির্দেশনা জারির সুপারিশ করে কোভিড বিষয়ক জাতীয় কারিগরি কমিটি। সেই সঙ্গে নতুন ধরন সম্পর্কে সবশেষ তথ্য দেয়। 

বলা হয়, এখনও কোনো টিকা নেননি এমন মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন। তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে। এছাড়া সম্মুখসারির পেশাজীবি, গর্ভবতী নারী ও ষাটোর্ধদের দ্রুত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজ শেষ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, চীনে বিএফ- ফাইভের নতুন ধরন বিএফ–সেভেন শনাক্ত হয়েছে। 

ধরনটি ওমিক্রনের চেয়ে শক্তিশালী। কম সময়ে বেশি মানুষকে এই ধরন আক্রান্ত করতে পারে। যারা টিকা নেননি, তাদের দ্রুত টিকা নিতে হবে।

তিনি বলেন, করোনার নতুন ধরন ভারতেও শনাক্ত হয়েছে। তাই দেশের সব বন্দরে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আইসোলেশনে নেয়া হচ্ছে।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করে এই বিএফ–৭ ধরনটি রয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করতে রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

টিকার মেয়াদ নিয়ে দ্বিধার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, টিকার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তার সুযোগ নেই। 

টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ অনুযায়ী ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষেই টিকার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতালসহ অন্য হাসপাতালও প্রস্তুত রাখতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 


একাত্তর/এসি