জাপানি মায়ের জিম্মায় থাকবে দুই শিশু, বাবার মামলা খারিজ

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ইমরান শরীফ ও জাপানি নাগরিক ডা. এরিকো নাকানোর দুই শিশু কন্যা মায়ের কাছে থাকবে বলে রায় ঘোষণা করেছে আদালত। 

রোববার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালতের বিচারক দুরদানা রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। পাশপাশি শিশুদের বাবার দায়ের করা মামলা খারিজ করেছে আদালত। এর ফলে ওই দুই জাপানি শিশুর তাদের মায়ের হেফাজতে থাকতে আর কোনো আইনি বাধা রইলো না।

এর আগে, ২২ জানুয়ারি দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছিল একই আদালত। 

এরিকোর আইনজীবীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১১ জুলাই জাপানি নাগরিক ডা. এরিকো নাকানো (৪৬) ও বাংলাদেশি আমেরিকান নাগরিক শরীফ ইমরান (৫৮) জাপানি আইন অনুসারে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা টোকিওতে বসবাস শুরু করেন। ১২ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের তিনটি কন্যা সন্তানের রয়েছে। তারা হলো— জেসমিন মালিকা (১১), লাইলা লিনা (১০) ও সানিয়া হেনা (৭)। 

জানা যায়, দাম্পত্য কলহের কারণে ২০২০ সালের শুরুতে বিচ্ছেদের আবেদন করেন এরিকো। এর পরপরই ইমরান স্কুলপড়ুয়া বড় দুই মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। আর ছোট মেয়ে থেকে যান জাপানে মা এরিকোর সাথে।

বড় দুই মেয়েকে নিজের জিম্মায় পেতে মহামারির মধ্যে গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে আসেন এরিকো। তিনি হাইকোর্টে রিট করে। পরে তাদের সমঝোতায় আসতে বলেন বিচারক। কিন্তু সমঝোতা না হওয়ায় কয়েক মাস ধরে শুনানির পর হাইকোর্ট দুই সন্তানকে বাবার হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত দেন। পাশাপাশি মা যাতে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বাবাকে খরচ দিতে বলা হয়।

এরপর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন এরিকো। পরে আপিল বিভাগ এক আদেশে দুই শিশুকে মায়ের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দিলেও বাবা তাতে অস্বীকৃতি জানান।

আরও পড়ুন: চীনে এক সপ্তাহে ছয় হাজারের বেশি করোনা রোগীর মৃত্যু

অন্যদিকে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর রাতে দুই সন্তান নিয়ে জাপানে যাওয়ার জন্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান এরিকো নাকানো। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় তাকে বিমানবন্দর থেকে পুলিশ ফিরিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় ২৯ ডিসেম্বর বাবা ইমরান শরিফ ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরাফাতুল রাকিবের আদালতে মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।


একাত্তর/আরবিএস