সহজেই করোনা শনাক্ত করবে দেশে উদ্ভাবিত কিট

সহজেই করোনা পরীক্ষার কিট উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ বিসিএসআইআর বা সাইন্স ল্যাব।

মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যালের গবেষকদের উদ্ভাবন করা এই কিটের ব্যবহার শুরু হলো। 

গবেষকদের দাবি, বিদেশি যে কোনো কিটের চেয়ে তাদের উদ্ভাবিত কিটটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী হবে। সহজেই মিলবে করোনা পরীক্ষার ফল।

প্রথমবার বিএসএমএমইউ হাসপাতালে শুরু হয় দেশে উদ্ভাবিত কিট দিয়ে করোনা ভাইরাস শনাক্তের কাজ। এতোদিন সব কিটই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। 

মঙ্গলবার দুপুরে বিএসএমএমইউতে এক সভায় ‘বিসিএসআইআর–কোভিড কিট’ নামের এই কিট আনুষ্ঠানিকভাবে উপাচার্যের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

বিসিএসআইআরের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আফতাব আলী শেখ বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে যেসব কিট ব্যবহার করা হচ্ছে, তার চেয়ে বাংলাদেশে উদ্ভাবিত কিটের প্রযুক্তিগত পার্থক্য আছে।

করোনাভাইরাস রূপান্তরিক হলেও, অর্থাৎ এর যে কোনো ভেরিয়েন্ট এই কিটের মাধ্যমে শনাক্ত করা যাবে। মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল ও ঔষধ প্রশাসন এই কিট ব্যবহারে সায় দিয়েছে।


গবেষকরা জানান, বিদেশি কিটগুলোর চেয়ে এটি দশ গুণ বেশি শক্তিশালী। অন্য কিটের জন্য যেখানে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হয় সেখানে এটির জন্য ব্যয় হবে ২৫০ টাকা। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএসএমএমইউ গবেষকদের সহায়তায় এটি কিট উদ্ভাবন করেছে সাইন্স ল্যাব। প্রাথমিকভাবে পাঁচ লাখ কিট উৎপাদন করতে পারবে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে দেশের সব হাসপাতালে এটি ব্যবহার করতে হলে বাণিজ্যিকভাবে কোনো কোম্পানির মাধ্যমে তা উৎপাদনে যেতে হবে।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্য যেকোনো কিটের চেয়ে বিসিএসআইআর–কোভিড কিট বহুগুণ উন্নত। কারণ একাধিক।

প্রতি মিলিলিটার নমুনায় ভাইরাসের (কপি) সংখ্যা কমপক্ষে এক হাজার না থাকলে বর্তমানে ব্যবহৃত কিটে করোনা শনাক্ত হয় না। 

অন্যদিকে ভাইরাসের সংখ্যা মাত্র ১০০ থাকলেই বিসিএসআইআর–কোভিড কিট করোনা শনাক্ত করতে পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশের কিটে ফলস নেগেটিভ কম হয়।

আরও পড়ুন: বুধবার ঢাকার যেসব এলাকায় চার ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

বক্ষব্যাধি–বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, এই কিট পেটেন্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পেটেন্ট হয়ে গেলে এই কিট রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে পাঁচ লাখ কিট উৎপাদন করা হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস বা ব্যক্তিমালিকাধীন প্রতিষ্ঠান এই কিট বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করবে। আপাতত বিসিএসআইআরের উৎপাদিত কিট ব্যবহৃত হতে থাকবে।


একাত্তর/এসি