অবশেষে গৃহস্থের দিন এলো, ধরা পড়লো দুই চতুর চোর

কথায় বলে, ‘চোরের ১০ দিন কী গৃহস্থের একদিন।’ প্রবাদটির মতো অবশেষে গৃহস্থের সেই দিনটি এলো। সাত বছর ধরে চুরি করে আসা পাকা হাতের জুটি ধরা পড়লো পুলিশের হাতে। এই জুটির একজনের নাম মো, জাকির হোসেন (৪৪), অন্যজন মো, নূর জামাল। তবে তারা জ্যাক-জামাল নামেই পরিচিত।

শুক্রবার (৩ মার্চ) রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার জাফরাবাদ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সময় তাদের কাছ থেকে চুরি কার সরঞ্জাম ও একটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের নথি বলছে, তারা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তালা কাটতে পারতো এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই দোকান সাবাড় করে চলে যেতো। চুরি করা এবং চুরির মালামাল বিক্রির জন্য তার  পিকআপ কিনেছিল। সেই পিকআপে ঘুরে ঘুরে তারা চুরি করতে। 

পুলিশের দাবি, সাত বছরে এই জুটি রাজধানীজুড়ে দেড় শতাধিক চুরি করেছে।  

পুলিশ জানায়, ছয় মাস আগে জনৈক আসাদুজ্জামান নূরের নিউ মিউজিক এশিয়া নামের এক দোকানে চুরির ঘটনা তদন্তে উঠে আসে জ্যাক-জামালের নাম। ২০২২ সালের সাত সেপ্টেম্বর মিরপুর বড়বাগ পলিভিটা বেকারি এলাকায় সংঘটিত হয়েছিল। সেই চুরির দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জ্যাক-জামালকে শনাক্ত করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোহেল (৩৫) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোহেল জ্যাক-জামালের কাছ থেকে চুরি করা মালামাল কিনতো।

চুরির টাকা গাড়ি কিনে গাড়িতে করেই চুরি

পুলিশ জানায়, চুরির টাকায় পিকআপ কেনে জ্যাক। সেই পিকআপে চেপেই তারা চুরি করে বেড়াতো। আগে এক রাতে একটি চুরি করলেও গাড়ি কেনার পর এক রাতে তারা চারটি পর্যন্ত চুরি করেছে। পরে এই পিকআপ করেই চুরির মালামাল বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে তারা। 

পুলিশ আরও জানায়, চুরির টাকায় তারা শুধু গাড়িই কেনেনি। আলাদা বাসাও ভাড়া করেছে। সব মালামাল এক সঙ্গে বিক্রি করলে ধরা পড়ার আশঙ্কায় ওই বাসাকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করতো। 

চার সেকেন্ডে তালা কেটে চার মিনিটে চুরি

পুলিশ জানায়, জ্যাক-জামাল চুরি করতে বের হয় রাত দুইটায়। চুরি করে বাসায় ফেরে সকাল ছয়টায়। এই চার ঘণ্টার মধ্যেই তারা সব চুরি করে। দুইজনের মধ্যে জ্যাক গ্রিল ও তালা কাটে। গ্রিল কিংবা তালা কাটতে তার সময় লাগে সর্বোচ্চ চার সেকেন্ড। কাটার পর দোকানে ঢুকে মালামাল চুরি করে জামাল। তার পুরো চুরি করতে সময় লাগে মাত্র চার মিনিট! এক রাতেই তারা কয়েকটি দোকান চুরি করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, এক রাতে তারা সর্বোচ্চ চারটি পর্যন্ত চুরি করেছে।

আরও পড়ুন: কাদিয়ানীদের জলসা নিয়ে পঞ্চগড় রণক্ষেত্র, নিহত এক

ছোট দোকান টার্গেট জ্যাক-জামালের

জ্যাক-জামালের মূল টার্গেট ছোট ছোট দোকান। সাধারণত রাস্তার ওপর থাকা ছোট ছোট পান-সিগারেট, মোবাইল রিচার্জের, মুদির দোকানই টার্গেট করে তারা। কারণ এসব দোকানদার সাধারণত অপেক্ষাকৃত নিম্ন আয়ের হয়। তাই চুরি করলেও তারা মামলা করেনা। এ কারণেই দেড় শতাধিক চুরি করলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা খুবই কম। জ্যাকের বিরুদ্ধে চারটি এবং জামালের বিরুদ্ধে তিনটি।


একাত্তর/এসি