রাজধানীর গুলিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর ছয়টি ভবনে এখনও তালা ঝুলছে। লোহার পিলার বসিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির ধসে পড়া বন্ধে ঠেকনা দেয়া হলেও বাকি ভবনগুলো কবে এবং কখন খুলবে তা জানেন না ওই সব ভবনের ব্যবসায়ীরা।
তবে এনিয়ে তাদের রাতের ঘুম হারাম হয়েছে। কারণ সামনেই ঈদ। তারা বলছেন, দোকান বন্ধ থাকায় ঈদ সামনে রেখে কর্মচারীদের বেতনসহ তাদের সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই থমকে আছে। দোকান না খুলতে পারলে বিকল্প কি করবেন, সেই চিন্তায় সময় কাটছে তাদের।
গুলিস্তানের কর্মচঞ্চল এলাকাটিতে এখন শুনশান নিরবতা। দূর্ঘটানার পর মূল সড়কের একাংশে এখনও যান চলাচল বন্ধ। ঝুকিপূর্ণ ভবনটির আশপাশের ছয়টি ভবনের মার্কেটে এখনও তালা ঝুলছে। প্রায় ৬০টি দোকানের সাটার বন্ধ এক সপ্তাহ।
বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ ছাড়াই আবাসিক ভবনে আছে বাসিন্দারা। এসব ভবন আবাসিক, বাণিজ্যিক, নাকি মিশ্র ভবন হিসেবে অনুমতি দেয়া; সেটি এখনও পরিস্কার করতে পারছে না রাজউক। কারণ, এখন পর্যন্ত তারা ভবনগুলোর নথিই খুঁজে বের করতে পারেননি তারা।
ভবন বিস্ফোরণের ঘটনায় আশেপাশের ভবনের বাসিন্দাদের আতঙ্ক এখনো কাটেনি। সেই ঘটনার বীভৎস স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে সেখানকার ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঝুকি জেনেও তারা ব্যবসা করছেন। কারণ এটাই তাদের আয়ের একমাত্র পথ।
বিস্ফোরণ ঘটা ভবনের পাশের ভবনের সেনিটারি ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণের দিন অল্পের জন্য প্রাণে গেছি। তবে, সে ভয় মনে রয়ে গেছে। চিন্তা করছি প্রতিষ্ঠান অন্য কোথাও নিয়ে যাব। তবে, অন্য কোথাও নিরাপদ কি না সেটাই বা কীভাবে বুঝব।
ওই ভবনের টাইলস ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন। বিল্ডিং ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পর বিপাকে পড়েছেন তিনি। অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার। বিস্ফোরণ ঘটা ভবনের নীচতলায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বিস্ফোরণে ক্ষতির শিকার তার প্রতিষ্ঠানও। বন্ধ থাকায় জীবিকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
রাজউক বলছে বিস্ফোরনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির ২৪টি পিলারের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ ৯টিতে লোহার পিলার দিয়ে আপাতত ঝুঁকিরোধ করা হয়েছে। তবে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলতে হবে নাকি মেরামত করে আবারও ব্যবহার করা যাবে; সেই সিদ্ধান্ত জানতে সময় লাগবে।
বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি ব্যবহার উপযোগী করতে পাঁচটি সুপারিশ করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কারিগরি কমিটি। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ব্যবহারে ‘ডিটেইলড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট’ করতে হবে। সে অনুযায়ী মজবুতকরণ (রেক্টোফিটিং) করতে হবে। এরপর ভবনটি ব্যবহার করা যাবে। অন্যথায় ভবনটি ব্যবহার করা যাবে না।
আরও পড়ুন: তালিকা যাচাইয়ে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল দেশে আসছে কাল
আরও বলা হয়েছে, ৪৫ দিনের মধ্যে ভবনমালিককে তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে চুক্তি করে ভবনটির ‘ডিটেইলড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট’ করতে হবে। এর মাধ্যমে জানা যাবে ভবনটি ঠিক কী পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর কী উপায়ে সেটিকে ব্যবহার উপযোগী করা যাবে।
ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, পুরান ঢাকার ভবনগুলো বেশিরভাগই এক থেকে দেড় কাঠা জমির উপর। পুরান ঢাকাকে ঝুঁকিমুক্ত করতে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সেটি বাস্তবায়নে আরও কিছু দিন সময় লাগবে।
এদিকে, গুলিস্তানের ভবনটির বিস্ফোরনের কারন জানতে তদন্তে নেমেছে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন কবে মিলবে সেটি এখনও জানা যায়নি। গত ৭ মার্চ সিদ্দিক বাজারে সাততলা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস