এক্সপ্রেসওয়েতে চলছে লক্কর-ঝক্কর বাস, ঘটাচ্ছে দুর্ঘটনা

সড়কপথে দূরপাল্লার যানবাহনের জন্য এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হলেও দ্রুতগতির এই পথে চলছে পুরনো লক্কর-ঝক্কর গাড়ি। সক্ষমতার বাইরে গিয়ে এক্সপ্রেসওয়েতে দুরন্ত গতিতে ছুটতে গিয়ে এসব পরিবহন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

সম্প্রতি এক্সপ্রেসওয়েতে বেশ কয়েকটি বড় দুর্ঘটনার পর সড়কটির নিরাপত্তা বিষয়টি সামনে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্ঘটনা কমাতে এক্সপ্রেসওয়ে উপযোগী বাহন দিয়ে সড়ক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের তদারকি বাড়াতে হবে।

পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই তিন দিনের সরকারি ছুটির ফাঁদে পড়ে দেশ। তবে এই ছুটিতে মানুষের চলাচল তেমন একটা ছিলো না। ফলে এক্সপ্রেসওয়েতে ছিলো নাই গাড়ির চাপ। ফাঁকা রাস্তা পেয়ে সড়কটিতে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাতে তৎপর হয়েছে চালকরা।


তারা জানান, এক্সপ্রেসওয়েতে ফাঁকা রাস্তা দেখলে তারা একটু গতি বাড়িয়ে গাড়ি চালান। তবে যারা দ্রুতগতির লোভ সংবরণ করে গাড়ি চালান তারা নিরাপদেই গন্তব্যে পৌঁছেন। কিন্তু যারা গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না তারাই সড়কে মৃত্যুর মিছিল তৈরি করছেন। 

দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে একশ্রেণির চালকের অসচেতনতার কথাই বললেন অন্য চালকরা। তারা জানান, চালক সতর্ক থাকলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা একবারেই থাকে না। চালকের শারীরিক ফিটনেস ঠিক থাকলে সাধারণত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালায় না।

কিছুদিন আগেই পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, ইমাদ পরিবহনটি মেয়াদোত্তীর্ণ, চালকের মধ্যম যান চলাচলের লাইসেন্স থাকলেও চালিয়েছে ভারী যানবাহন। বৃষ্টিভেজা সড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোই দুর্ঘটনার কারণ।

মহাসড়কে চালকদের অনিয়ম ও গাফিলতির অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এক্সপ্রেসওয়েতে আছে হাইওয়ে পুলিশ। গতি মাপার যন্ত্র দিয়ে মাঝেমধ্যে অতিদ্রুত গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন তারা। তাদের অজুহাত লোকবল নেই। ফলে বেশিরভাগ সময়ই ব্যবস্থা নিতে পারেন না তারা।


স্থানীয় প্রশাসন বলছে, হাইওয়ে পুলিশ নির্দিষ্ট জায়গায় মেশিন ও চেকপোস্ট বসিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ করলেও ওই জায়গা পার হয়েই চালকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তাই দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। আর এই প্রবণতা বন্ধ করতে হলে হাইওয়ে পুলিশে জনবল বাড়াতে হবে। 

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, আমাদের এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ হয়েছে ঠিকই। কিন্তু সেখানে চলার উপযোগী কোনো গাড়ি নেই। নতুন রাস্তায় চলছে পুরনো লক্কড় ঝক্কড় গাড়ি। গতির সঙ্গে টক্কর দিতে গিয়ে তারা পড়ছে দুর্ঘটনায়। এসব পরিবহন এক্সপ্রেসওয়েতে চলার মতো না। 

আরও পড়ুন: নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ে দুই সংস্থার দুই চিত্র!

বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, সড়ক তৈরি করে বসে থাকলে হবে না, সেই সঙ্গে সড়কের চলার উপযোগী যান নামাতে হবে। থাকতে হবে সঠিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনা। নইলে স্বপ্নের এক্সপ্রেসওয়ে অনেকের দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে। 


একাত্তর/এসি