অন্য মামলায়ও জামিন পেলেন সাংবাদিক শামসুজ্জামান

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় করা মামলায় জামিন পেয়েছেন প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামান।

রোববার (৯ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত এ জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে তিন এপ্রিল রমনা থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

তার আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার সাংবাদিকদের এ খবর জানিয়েছেন।

গত ৩০ মার্চ সিএমএম আদালতে আনা হয় শামসুজ্জামানকে। পরে রমনা থানার পুলিশ তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। এরপর শামসুজ্জামানের জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়। ওই দিন উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

স্বাধীনতা দিবসে প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে একজন শ্রমজীবীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘পেটে ভাত না জুটলে স্বাধীনতা দিয়া কী করুম। বাজারে গেলে ঘাম ছুটে যায়। আমাগো মাছ, মাংস আর চাইলের স্বাধীনতা লাগব’। এ মন্তব্য ধরেই খবরটির শিরোনাম করা হয়। তবে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ফটোকার্ডে ছবি দেয়া হয় আরেকটি শিশুর। এ ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। প্রতিবেদনটিতে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ উপাদান থাকার কথাও বলা হচ্ছে।

পরদিন বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে একাত্তর টেলিভিশনে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। তাতে দাবি করা হয়, একটি শিশুকে ১০ টাকা দিয়ে সেই কথা বলানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঈদে পদ্মা সেতু ছাড়া সব জায়গায় চলবে বাইক

পরে অবশ্য দৈনিক প্রথম আলো প্রতিবেদন থেকে ছবি সরিয়ে শিরোনাম বদলে দেয়। পাশাপাশি সামাজিকমাধ্যমে দেয়া তাদের পোস্টও প্রত্যাহার করে নেয়। প্রতিবেদনে ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ তথ্য প্রচারের অভিযোগে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের নেতা গোলাম কিবরিয়া। সেই মামলায় কেবল শামসকেই আসামি করা হয়।

পরে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, জাতির জন্য মানহানিকর’ তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ ও প্রচারের অভিযোগে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামান শামসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন আইনজীবী মশিউর মালেক। ইতিমধ্যে প্রথম আলোর সম্পাদক আগাম জামিন আবেদন করলে আদালত ছয় সপ্তাহের জন্য তা মঞ্জুর করেছেন।


একাত্তর/এসি