সদর ঘাট ফাঁকা, সায়েদাবাদে উপচে পড়া ভিড়

ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে। অথচ সদর ঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নাড়ীর টানে ঘরে ফেরা মানুষের ধাক্কা-ধাক্কি, হুড়োহুড়ি আর লঞ্চ শ্রমিকদের হাঁকডাকের সেই চির চেনা চিত্র আর নেই। পদ্মাসেতু চালুর পর পুরো দৃশ্য পাল্টে গেছে ব্যস্ততম এই নদীপথটির। ঠায় দাঁড়িয়ে আছে দৈত্যকার লঞ্চগুলো।

অন্যদিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে উপচে পড়েছে মানুষ। যাত্রীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে কাউন্টারগুলো। 

বুধবার (১৯ এপ্রিল) সরেজমিন, সদরঘাটে লঞ্চগুলো সারি বেধে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আর নদীর পাড়ে মানুষের মাথায় বস্তা, হাতে ব্যাগ আর মুখে অনাবিল হাসির সেই চেনা দৃশ্য দেখা মিললো খুবই কম। তবে ভিড় কম হওয়ায় যাত্রীর মুখে ছিল স্বস্তির চিহ্ন।

লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রী কমের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। 


অপরদিকে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিলানের চিত্রটা পুরাই ভিন্ন। পদ্ম সেতু চালুর পর ১২টি রুটে মূলত দেশের ২১ জেলার যাত্রীরা এখন যাচ্ছেন সায়েদাবাদ হয়ে। ফলে যাত্রী চাপ সামলাতে রীতিমত হিমশিম অবস্থা পরিবহন সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে ঈদে সদরঘাট ও সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে যাত্রী চলাচলের পরিস্থিতি কেমন তা  সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। 

এসময় তিনি বলেন, যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে গোয়েন্দা ও র‌্যাবের পাশাপাশি পুলিশের সব বাহিনী একযোগে কাজ করছে। 

আইজিপি বলেছেন, ঈদে ফাঁকা ঢাকায় প্রতিবারই ঘটে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা। এবারের আর সেই সুযোগ নেই। জনগণের জানমাল নিরাপত্তায় তৎপর থাকবে পুলিশ।

এসময় ফাঁকা বাড়িতে মূল্যবান সম্পদ নিকটাত্মীয় অথবা নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।


ঈদের মাঠে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানিয়ে আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, যেখানে ঈদ আগের দিন পালন করবে, সেখানেও একই ব্যবস্থা থাকবে।

মহাসড়কে নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। চালকদেরও সচেতন হতে হবে। এবার আশা করি দুর্ঘটনা কমবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে দিনের বেলা মহাসড়কে চাপ কম থাকবে। রাতে বাড়বে। তাই আমরা সব বাহিনী একসঙ্গে কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, ঈদ জামাত ঘিরে কোনো নাশকতার আশঙ্কা নেই। 


একাত্তর/এসি