বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন
করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সেখানে
একাধিক প্রকল্পে ১৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা চুক্তি হতে যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক ড. আহমেদ কায়কাউস জানান, তলাবিহীন ঝুড়ির তকমা পিছে ফেলে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার গল্প শোনাবেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাধীনতার এক মাস পর, ১৯৭২ সালের ৩১শে জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সে সময়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যাকনামারার বৈঠক হয়।
সেই বৈঠকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের সদস্য হওয়া এবং বাংলাদেশের পুণর্গঠনে সহযোগিতার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়।
ছয় মাসের মাথায় ১৭ আগষ্ট বহুজাতিক সংস্থাদুটির সদস্য হওয়া, আর ৩০ নভেম্বর পাঁচ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সইয়ের মাধ্যমে শুরু হয় সহযোগিতার পথচলা।
গত ৫০ বছরে বাংলাদেশকে ৩ তিন হাজার ৮০০ কোটি ডলার দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থ কাজে লেগেছে দারিদ্র্য বিমোচন আর অবকাঠামো উন্নয়নে।
রাস্তাঘাট, ভবনসহ বড় অবকাঠামো নির্মাণেও অর্থ দিয়েছে এই বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ৫৭টি চলমান প্রকল্পে এক হাজার ৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে বিশ্বব্যাংক।
যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মানে ২০ কোটি ডলার ঋণ দিলেও পদ্মা সেতুতে কথিত দুর্নীতির অভিযোগে ঋণ বাতিল নিয়ে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
সেই তিক্ততা পেছনে ফেলে সামনের দিকেই তাকাতে চায় দুপক্ষই। এই কারণেই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে ৫০ বছর পূর্তির উদযাপনে গল্প শোনাবেন উন্নয়ন অগ্রযাত্রার।
বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক আহমেদ কায়কাউস বলেন, এবার পাঁচ প্রকল্পে ১২৫ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার চুক্তি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রা নিয়ে বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে এরই মধ্যে চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
১ মে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘রিফ্লেকশন অন ফিফটি ইয়ার্স অব ওয়ার্ল্ড ব্যাংক-বাংলাদেশ পার্টনারশিপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
ওইদিন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, এমডি ও ভাইস-প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজসভায় যোগ দেবেন। বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠকের কথা রয়েছে তার।
আরও পড়ুন: মে’র দ্বিতীয় সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
২ মে প্রবাসী বাংলাদেশীরা প্রধানমন্ত্রীকে নাগরিক সংবর্ধনা দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রে সাত দিনের সফর শেষে ৪ মে প্রধানমন্ত্রী লন্ডন যাবেন।
সেখানে যুক্তরাজ্যের রাজা ও রানী হিসাবে তৃতীয় চার্লস এবং তার স্ত্রী ক্যামিলার রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ৮ মে লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
একাত্তর/আরবিএস