এ বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেছেন, এবছর যেহেতু আশঙ্কা বেশি। তাই এবার যুদ্ধাংদেহি মনোভাব নিয়েই এডিস নিধনে কাজ করা হবে।
গতবছরই ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের শুরু থেকেই বিভিন্নস্থানে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ভরা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে আশঙ্কার কথা জানিয়ে তাপস বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী এবারের ডেঙ্গুর প্রকোপ গতবছরের তুলনায় বেশি হতে পারে। তাই বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি আমরা।
তিনি জানান, আগামী ১৫ই জুন থেকে ডেঙ্গু নিধনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
আগের বছরগুলোতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী কার্যক্রম চললেও এ বছর তা চারমাস চলবে বলে জানান দক্ষিণের মেয়র।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ছিল ২০১৯ সালে। আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর ডেঙ্গু শুরু হয়েছিল মে মাসে, মৃত্যু হয়েছিল ৯০ জনের।
কিন্তু আক্রান্তে মৃত্যুর হার অন্যান্য সব বছরকে ছাড়িয়ে যায় ২০২২ সাল। ৬২ হাজার রোগী পাওয়া গেলে গেল বছর মারা গেছেন রেকর্ড ২৮১ জন।
চলতি বছরের শুরু থেকেই বিভিন্নস্থানে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর খবর আসায় চিন্তায় পড়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগ ও নগর ব্যবস্থাপনায় জড়িতরা। এর আগে বছরের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত এতো রোগী দেখা যায়নি।
এর কারণ হিসেবে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্ষাকাল দীর্ঘায়িত হওয়াকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মেয়র তাপস বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম চলবে আশ্বিন মাস পর্যন্ত। নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট মাত্র দুইজন। এজন্য অতিরিক্ত দশজন ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছি। সেক্ষেত্রে দশটি অঞ্চলে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
মশার উৎস ধ্বংস করাই অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য-মন্তব্য করে তিনি বলেন, এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে। অন্যান্য সংস্থার প্রতি আহ্বান, তারা যেন নিজ নিজ অফিস আদালত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখেন।
‘যদি পরিষ্কার করতে নাও পারেন, তথ্য দিলে আমাদের পরিচ্ছন্নতা কর্মী গিয়ে পরিষ্কার করে লার্ভিসাইডিং করে আসবে। কিন্তু সেটি আপনাদের দেখভাল করতে হবে যেনো পুনরায় মশা না হতে পারে।’
একাত্তর/আরবি