মধ্যরাতে মদ পান করে কার রেসিং, প্রাণ গেল দুইজনের

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার কুর্মিটোলা এলাকায় মধ্যরাতে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘাতক গাড়ি ও এর চালককে আটক করেছে পুলিশ।

ক্যান্টনমেন্ট থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হুমায়ুন কবির জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন প্রাইভেটকারের চালক মদ্যপান করে গাড়ির রেসিং করছিলেন।

নিহতরা হলেন, শামীম (৩৫) এবং জান্নাত আক্তার (১৮)।  তারা চাচাত ভাই-বোন।

জান্নাত বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার মো. বাহাউদ্দিনের মেয়ে। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে তিনি কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় থাকতেন তিনি।

মৃত শামীম একই থানার বিবি চিনি গ্রামের সোহরাব মৃধার ছেলে। বর্তমানে সদরঘাট এলাকায় থাকতেন তিনি। এক ছেলে এক মেয়ের জনক ছিলেন শামীম। পরিবার থাকতো গ্রামে। তিনি ডিপিডিসির এক ঠিকাদারের অধীনস্থ লাইনম্যানের চাকরি করতেন।

নিহত জান্নাতের বাবা বাহাউদ্দিন জানান, জান্নাত কুর্মিটোলা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। গতরাতে জান্নাতের চাচাতো ভাই শামীম মাটিকাটা এলাকা থেকে কুড়িল বিশ্বরোডে তাদের বাসায় বেড়াতে আসে। রাতে শামীম তার নিজের ভাগনি সাদিয়া (৮) ও চাচাতো বোন জান্নাতকে সঙ্গে নিয়ে মাটিকাটায় নিজের বাসায় যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে আরেকটি মোটরসাইকেলে ছিলেন সাদিয়ার মা-বাবা ও দুই ভাই। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে পৌঁছলে শামীমের মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে একটি প্রাইভেটকার এসে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

দ্রুত তাদের প্রথমে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি দেখে সেখান থেকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেওয়া হলে চিকিৎসক ভোরে জান্নাতকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টার দিকে মারা যান শামীম।

আরও পড়ুন: রাজধানীর কিছু এলাকায় এখনও বর্জ্যের স্তূপ

ক্যান্টনমেন্ট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। অভিযুক্ত চালককে আটক করা হয়েছে।


একাত্তর/আরএ