শ্রম আদালতের মামলা বাতিল চেয়ে ইউনূসের আবেদন

শ্রম আদালতের মামলা বাতিল চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছেন গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

গত মঙ্গলবার ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় অভিযোগ গঠন কেন বাতিল করা হবে না, এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।

এর ফলে শ্রম আদালতে তাদের বিচারকাজ চলতে বাধা নেই বলে আদেশে বলা হয়। 

এরপর বৃহস্পতিবারই ড. ইউনূসের পক্ষে ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন মামলা বাতিল চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদনটি করেন। তবে আবেদনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে রোববার। 

মামলা বাতিল চেয়ে করা এই আবেদনটি যেকোনো দিন শুনানি হবে ড. ইউনূসের আইনজীবীরা জানিয়েছেন। 

ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, গ্রামীণ টেলিকমের ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তাদের স্থায়ী না করা, শ্রমিকদের অংশগ্রহণের তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন না করা এবং কোম্পানির লভ্যাংশের পাঁচ শতাংশ শ্রমিকদের দেয়ার কথা থাকলেও তা তাদের দেয়া হয়নি।

এসব অভিযোগে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান।

তবে একই বছরের ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দিয়েছিলেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে মামলা বাতিলে জারি করা রুল দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়।

গত ৬ জুন ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। এর মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ কাজ শুরু হয়। এরপর অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন ইউনূস। 

আরও পড়ুন: তারেকের বক্তব্য প্রচারে নিষেধের চিঠি গুলশানে পাঠাতে নির্দেশ

অভিযোগ গঠন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে গত ২৩ জুলাই রুল জারি করে হাইকোর্ট। পরে এই রুল বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৩ অগাস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন কেন বাতিল করা হবে না, এ মর্মে জারি করা রুল শুনানির জন্য বেঞ্চ পরিবর্তন করে নতুন বেঞ্চে পাঠায় আপিল বিভাগ। ইউনূসের মামলা বাতিল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।


একাত্তর/আরবি