বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে চীন নাক গলাবে না: রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের নির্বাচনকে অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্তব্য করে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, এই ইস্যুতে চীন নাক গলাবে না। বাংলাদেশের মানুষ ঠিক করবে আগামী নির্বাচনে কারা ক্ষমতায় আসবে। 

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই কথা বলেন। 

ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। আমরা দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে সব রকম সহযোগিতা করবো। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে গেলে ২০২৬ সাল পরবর্তী বিশ্ব বাণিজ্যে যেসব প্রতিবন্ধকতায় পড়তে পারে বাংলাদেশ সেখানেও শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দিয়ে পাশে থাকবে চীন।

এসময় বিদেশি ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশকে নিয়ে চিন্তিত নয় বলেও জানান চীনের এই রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকের বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নান জানান, পদ্মা সেতুর পর এবার পশ্চিমাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে চায় চীন। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে চীনা বিনিয়োগকারীদের।

তিনি বলেন, চীন আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। সরকারের পক্ষে রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়েছি। এখানে যে কয়টি বিষয় আলোচনা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো- আমরা পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়ন করেছি। চীনও পরিকল্পিত উপায়ে এগিয়ে যাচ্ছে। চীনের প্রায় ২৭টি পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনা এরই মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। আমরা এখন অষ্টমে আছি। 

চীনের রাষ্ট্রদূতের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশ পরিকল্পনা ক্ষেত্রে এক সঙ্গে কাজ করতে পারে। উন্নয়ন কৌশল শিখতে আমরা প্রয়োজনে প্রশিক্ষণের জন্য চীনে লোকবল পাঠাবো। দ্বিতীয় বিষয় হলো, অবকাঠামো নির্মাণে তাদের অভিজ্ঞতা আছে। তাই তারা আমাদের নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে অংশীদার হতে চায়। 

তিনি বলেন, পদ্মা সেতু খোলার পরে দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলা, যেমন যশোর-খুলনা এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে চীন বিনিয়োগে আগ্রহী। চীনের ধারনা, এদেশে সোলার, বৈদ্যুতিক গাড়ি সংযোজনসহ সব সম্ভাবনাময় খাতে যৌথভাবে বিনিয়োগ করলে তারা বাংলাদেশের বাজার ধরতে পারবে। 

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে কথা হয়েছে। তবে তারা বলেছেন, তাদের নীতি হলো কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে নাক না গলানো। 


একাত্তর/এসি