২২৬ মৃত্যুর দিনে শনাক্ত ১২,২৩৬

দেশে করোনা সংক্রমণের ৪৯৪ তম দিনেও ২০০ ছাড়িয়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। আজ করোনায় নতুন করে আরও ২২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে ১১ জুলাই (রোববার) দেশে করোনায় সর্বোচ্চ ২৩০ জনের মৃত্যু হয়। পরদিন ১২ জুলাই তৃতীয় সর্বোচ্চ ২২০ জনের মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, করোনায় আজ দেশে ১২ হাজার ২৩৬ জন সংক্রমিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে দেশে করোনা রোগী চিহ্নিত হয়েছেন ১০ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৪ জন। দেশে ১২ জুলাই ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৭৬৮ জন রোগী শনাক্ত হয়। এছাড়া ৮ জুলাই দেশে করোনায় সংক্রমিত হন ১১ হাজার ৬৫১ জন।

বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, নতুন মৃত্যু নিয়ে দেশে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ১৭ হাজার ২৭৮ জনের।

২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৩৯৫ জন। এখনও পর্যন্ত ভাইরাসের সাথে লড়াই করে সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৫ হাজার ৮০৭ জন।

দেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৮৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায়  রোগী শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ২৩ শতাংশ, আর এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৫ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৫১ শতাংশ, আর শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৬১ শতাংশ।

২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ৪৬ হাজার ৬০৪টি, নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৪ হাজার ৯৪১টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২০টি। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৫২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৫৯টি  ও  বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ১৯ লাখ পাঁচ হাজার ৫৬১টি।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ২২৬ জনের মধ্যে পুরুষ ১৪০ জন ও নারী ৮৬ জন। দেশে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েন পুরুষ মারা গেছেন ১২ হাজার ৫৩ জন  ও নারী মারা গেছেন পাঁচ হাজার ২২৫ জন।

করোনায় মারা যাওয়া বয়স ভিত্তিক বিশ্লেষণে এতদিন পর্যন্ত শূন্য থেকে শত বছরের নিচের বয়সীদের তথ্য পাওয়া গেছে।আজ প্রথম স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১০০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সীদের হিসাবে অর্ন্তভুক্ত করেছে। অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১০০ ঊর্ধ্ব বয়সের মারা গেছেন দুই জন, ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে মারা গেছেন তিন জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে মারা গেছেন ২২ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৪৪ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৫০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৪৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৩৬ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ২১ থেকে ৩০বছরের মধ্যে ছয়জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন, আর শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে মারা গেছে একজন।

তাদের মধ্যে বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে অধিদপ্তর জানিয়েছে, মারা যাওয়া ২২৬ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ৭৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৪২ জন, রাজশাহী বিভাগের ২৪ জন, খুলনা বিভাগের ৫২ জন, বরিশাল বিভাগের ছয়জন, সিলেট বিভাগের পাঁচ জন, রংপুর বিভাগের ১৩ জন ও ময়মনসিংহ বিভাগের রয়েছেন ১০ জন।

মারা যাওয়া ২২৬ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১৬৮ জন, বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ৩৮ জন  এবং বাড়িতে মারা গেছেন ২০ জন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইডিসিআর জানিয়েছে, গত জুন মাসে দেশে কোভিড-১৯ রোগীদের নমুনা থেকে ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স করে দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশই ডেল্টা ধরনের।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গতবছর ৮ মার্চ; তা আট লাখ পেরিয়ে যায় এ বছর ৩১ মে। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। এরপর আগের সব রেকর্ড ভেঙে ৬ জুলাই ১১ হাজার ৫২৫ জনের করোনার ধরা পড়ে।

প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ১১ মে তা ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

আরও পড়ুন: নভেম্বর-ডিসেম্বরে হতে পারে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান করা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডও-মিটারের বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) বিকেলের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে করোনায় এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৪০ লাখ ৭৬ হাজার ৯৮৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১৭ কোটি ২৮ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫২ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৯৯ জন। ভাইরাসে মোট সংক্রমিত হয়েছেন ১৮ কোটি ৯৩ লাখ ২২ হাজার ৩৬ জন।



একাত্তর/আরএ