একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ ২০২৫ ও কীর্তি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা উদযাপিত

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হলো নবীনবরণ-আনন্দ মেলা ২০২৫

উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতে সমর্পন করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ৬ নভেম্বর সাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবাগতদের বরণ করে নেওয়া হলো। একইসাথে প্রাণবন্ত সংবর্ধনা প্রদান করা হয় কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষায় সফল শিক্ষার্থীদের। নৃত্য সঙ্গীত আর রঙের বাহারে এক জমকালো ভাবমূর্তিতেে অনন্য হয়ে ওঠে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাস। দিনভর চলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তাৎপর্য পূর্ণ আলোচনা সভা।

আয়োজিত নবীনবরণ ও কীর্তি শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান। প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদ্য নিযুক্ত চেয়ারম্যান শামীমা সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি), অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

IMG-20251208-WA0008

আমন্ত্রিত অতিথির মধ্যে আরও ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাচারাল হিলিং চিকিৎসক ডা. মোসেস চো, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহালুল হক চৌধুরী, ড. মাহবুবর রহমান মোল্লা কলেজের কো-চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক এবং সামসুল হক খান স্কুল কলেজের প্রিন্সিপাল মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লার সহধর্মিণী আফরোজা রহমান লতা, ঢাকা বোর্ডের বিশিষ্ট পদস্হ কর্মকর্তা মো. কফিলউদ্দিন, সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের  গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কলেজ ইনচার্জ মো. মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন ও  ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের প্রিন্সিপাল মো. ওবায়দুল্লাহ নয়ন।

IMG-20251208-WA0007

নবীনবরণ ও কীর্তি শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় সামসুল হক খান স্কুল  অ্যান্ড কলেজের  প্রিন্সিপাল ড. মাহবুবুর মোল্লা তাঁর শীর্ষক বক্তৃৃতায় নবাগতদের উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অকুন্ঠ পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান দেশসেরা হয়ে উঠেছে। দেশের যেকোনো শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের সমকক্ষ এই শিক্ষাঙ্গন। যুগ-যুগান্তরের সংগ্রামের ফসল এই অঙ্গন।

তিনি আরও বলেন, আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পৃথিবীর উপযুক্ত মানব সন্তান গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছি, শিক্ষার্থীদের মানবিক মানুষ হিসেবে নির্মাণ করাই আমাদের ব্রত।

শিক্ষার্থীদের তিনি চায়নার  গুইলিন ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন এবং একই সাথে বিশ্বমানের ইংলিশ মিডিয়াম টার্নিং পয়েন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল উন্মুক্ত করার সুসংবাদ পরিবেশন করেন।

IMG-20251208-WA0006

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান শামীমা সুলতানা শিক্ষার্থীদের আদর্শ ও উন্নত  মানুুষ হওয়ার উপদেশ দিয়ে অনুপ্রাণিত করেন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, সামসুল হক খান স্কুল কলেজের অতীত ও বর্তমান গৌরবোজ্জ্বল।  এ প্রতিষ্ঠানের আগামীও সম্ভাবনাময়। ২০২৪ সালে সন্তোষজনক সংখ্যক শিক্ষার্থী সরকারি মেডিকেল, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। দেশের সব উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে এখানের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নরত আছে।

সহকারী অধ্যাপক ও কলেজ ইনচার্জ মো. মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ২০২৫ সালে ৪৩০ A+ সহ শতভাগ শিক্ষার্থী এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের জন্য শিক্ষার্থীরা ট্রমার মধ্যে ছিলো, না হয় আরও ভালো করতে পারতো। এই প্রতিষ্ঠান  অতীতে এসএসসি ও এইচএসসিতে ঢাকা বোর্ডে প্রথম স্হান অধিকার করেছে। এমন শুভ দিন এই প্রতিষ্ঠানে বারবার আসবে।

কীর্তি শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তৃতায় সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্বর্ণালি অতীত তুলে ধরেছে। তারা মনে করে তাদের সৌভাগ্যের ভিত্তিমূল তাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ।