সাবেক স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে করা মামলায় খালাস পেয়েছেন একাত্তরে শহীদ পরিবারের সন্তান ও সাংবাদিক প্রবীর সিকদার।
বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর একটায় ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসশামছ জগলুল হোসেনের আদালত এই রায় ঘোষণা করে।
রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রবীর সিকদার বলেন, আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, যাদেরকে এ মামলায় ভিকটিম বলা হয়েছে, তারা নিজেরা এ মামলা করেননি বা তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন কেউ এ মামলার বাদী নন। এমনকি তারা এ মামলায় সাক্ষীও ছিলেন না। মামলা করেছেন দূরের একজন, যার এ অভিযোগে মামলা করার এখতিয়ার নেই।
এর আগে দুই দফা পিছিয়ে যায় আলোচিত এই মামলাটির রায় ঘোষণা। গত ২২ মার্চ রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ১ এপ্রিল দিন ধার্য করেন আদালত। কিন্তু রায় প্রস্তুত না হওয়ার কারণে আদালত ১১ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এরপর কোভিড-১৯ এর ঊর্ধ্বগতির কারণে আদালতের বিচার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মামলাটির রায় আর হয়নি।
বর্তমানে আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় মামলাটির রায় ঘোষণা করার জন্য ৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়।
আরও পড়ুন: প্রবীর সিকদার: মন্ত্রীকে কটুক্তির মামলার রায় আজ
২০১৫ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর ইন্দিরা রোডের অনলাইন পত্রিকা অফিস থেকে প্রবীর সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে রাতেই তাকে ফরিদপুর নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দেওয়া হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রবীর সিকদার ফেসবুকে লেখার মাধ্যমে মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সুনাম ক্ষুণ্ণ করেছেন।
এরপর ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল হলে ওই বছরের ৪ আগস্ট প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধীরা প্রবীর সিকদারের বাবাসহ পরিবারের ১৪ সদস্যকে হত্যা করে। ২০০১ সালে জনকণ্ঠ পত্রিকার ফরিদপুর প্রতিনিধি থাকাকালে রাজাকারদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন লেখার পর সন্ত্রাসীদের হামলায় তিনি একটি পা হারান।
একাত্তর/আরএইচ