পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ থেকে

সোমবার সকাল থেকে মিনার উদ্দেশে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানের যাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের আশায় সৌদি আরবের স্থানীয় সময় আগের রাতেই মিনার তাঁবু শহরের উদ্দেশে রওনা দেবেন বিশ্বজুড়ে আসা লাখো আল্লাহর মেহমান।

ইতোমধ্যে মক্কার বাংলাদেশ হজ অফিস ও সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলো বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মিনায় পাঠানোর সব প্রশাসনিক ও লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ৮ জিলহজ (সোমবার) হাজিরা মিনায় অবস্থান করবেন এবং সেখানে ফজর থেকে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। মিনায় পবিত্র রাত্রিযাপন শেষে আগামীকাল ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) সকালে হাজিরা রওনা হবেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে।

Hajj 2026 1
আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের প্রধান স্তম্ভ বা মূল রোকন। এ বছর আরাফাতের ময়দানে হজের ঐতিহাসিক খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। খুতবা শ্রবণ শেষে হাজিরা সেখানে একসঙ্গে যোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন।

৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত্রিযাপন করবেন এবং মিনায় জামারায় নিক্ষেপের জন্য কঙ্কর (পাথর) সংগ্রহ করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে পুনরায় মিনায় ফিরে শুধু বড় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন।

এরপর পশু কোরবানি দিয়ে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার মাধ্যমে এহরামের কাপড় ত্যাগ করবেন। পরবর্তীকালে ১১ ও ১২ জিলহজ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা (জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ ও বিদায়ী তওয়াফ) শেষ করে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা।

সৌদি আরবের পাসপোর্ট অধিদপ্তরের হজ কমান্ডিং অফিসার সালেহ আল-মোরাব্বাহ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই এবার ১৫ লাখ ১৮ হাজার ১৫৩ জন বিদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছে গেছেন। এই সংখ্যা গত ২০২৫ সালের মোট বিদেশি হজযাত্রীর সংখ্যাকে (১৫ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ জন) ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে।

Hajj 2026 2
রোববার ও সোমবার এই সংখ্যা আরও বাড়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনুমানিক ১৬ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন সাড়ে ৭৮ হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ।

বিশাল এই জনসমুদ্রের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে কঠোর ও ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি আরব প্রশাসন। দেশটির বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মনসুর বিন নাসের আল-ফায়েজ হজের পবিত্র স্থানগুলোতে নিয়োজিত মাঠ পর্যায়ের নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আল্লাহর মেহমানদের সেবায় নিরাপত্তা বাহিনীগুলো পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

কমান্ডার আরও উল্লেখ করেন, এ বছর বিভিন্ন সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চমৎকার ও আধুনিক সমন্বয় রয়েছে। এর ফলে হজের এই পাঁচ দিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মুসলিম অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্য, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং মানসিক প্রশান্তির সঙ্গে তাদের জীবনের অন্যতম সেরা ইবাদত সম্পন্ন করতে পারবেন।