অপরাধ দমনে আরপিএমপির হুঁশিয়ারি

চুরি ও চোরাই মালামাল কেনাবেচা প্রতিরোধে রংপুরের সব ভাঙারি দোকানে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)। কোনো ভাঙারি ব্যবসায়ী চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের যেকোনো তৎপরতা রুখতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) আরপিএমপি সদরদপ্তরের পুলিশ কমিশনারের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত মে মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আরপিএমপি’র পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

সভায় মে মাসের অপরাধ চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, বিদায়ী মাসে আরপিএমপিতে মোট ১৪৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯১টি মাদক মামলা। এছাড়া অস্ত্র আইনে ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ৫টি, ধর্ষণ ২টি, চুরি ১২টি এবং অন্যান্য ধারায় ৩৫টি মামলা হয়েছে। মাসজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ৯২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব অভিযানে আনুমানিক ৫ লাখ ৫ হাজার ৫২৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ৭.৯৪৫ কেজি গাঁজা, ১,২৪৯ পিস ইয়াবা, ৩.২ গ্রাম হেরোইন, ৩০ পিস ট্যাপেন্ডল, ৬ বোতল ফেন্সিডিল, ৩০.৭৫০ লিটার চোলাই মদ এবং ২৫ পিস অ্যাম্পুল।

নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও নিষ্পত্তির নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। তিনি বলেন, এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারকদের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস বা সমঝোতার সুযোগ নেই।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করতে হবে এবং মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না। ওয়ারেন্ট তামিল ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিকল্পনা নিয়ে টিমভিত্তিক কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জনগণের সঙ্গে পুলিশের আচরণ কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়ে আরপিএমপি প্রধান বলেন, মানুষের মধ্যে পশুত্ব ও মনুষ্যত্ব দুই ধরনের প্রবৃত্তিই থাকে। একজন পুলিশ সদস্য হিসেবে পশুত্বপরায়ণতা পরিহার করে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও মনুষ্যত্বের চর্চার মাধ্যমে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশি সেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে শিষ্টাচার, সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।

অপরাধ প্রতিরোধে আগাম তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দিয়ে সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, ছাত্রাবাস, মেস এবং আবাসিক এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতিটি ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের শৃঙ্খলা, কর্মদক্ষতা ও সার্বিক কল্যাণের দায়িত্ব নিজ নিজ ইউনিট প্রধানদের কার্যকরভাবে তদারকি করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরপিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) তোফায়েল আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মাহফুজুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আবদুর রহমানসহ সব থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) ও বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।