রোটারি ইন্টারন্যাশনালের ব্যানারে এবং তরুণ, বেকার ও নারী ক্ষমতায়নে নিয়োজিত দেশের সবচেয়ে পুরোনো সংগঠন ‘তৃণমূল উদ্যোক্তা সোসাইটি’র সহযোগিতায় নারী মালিকানাধীন ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর একটি যুগান্তকারী সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) রোটারি ক্লাব অব ঢাকা ম্যাভেরিক্স তেজগাঁওয়ের বিসিক প্রধান কার্যালয়ে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জাতীয় অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই উদ্যোগে নারী মালিকানাধীন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ মোট ৮০ জন অংশ নেন। এর পাশাপাশি বিসিক, এসএমই ফাউন্ডেশন, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস প্রদানকারী সংস্থা, নারী উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।
দেশের অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অংশীজনরা সেক্টরভিত্তিক অগ্রগতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং নীতিগত সুপারিশমালার ওপর প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেন।
রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৬৪৬৫-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর ড. ইশতিয়াক জামান শান্তি প্রতিষ্ঠা, পোলিও নির্মূল, নারীর ক্ষমতায়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির প্রতি রোটারির দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ৭৫ বছর ধরে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল তার নিবেদিতপ্রাণ সদস্যদের মাধ্যমে বাংলাদেশে সেবা দিয়ে আসছে এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনে অবদান রাখছে।
সম্মেলনে ব্যবসায়ী আইকন এবং উদীয়মান নেতারা উপস্থিত ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তাদের সাথে তাদের অভিজ্ঞতা ও সেরা কর্মপদ্ধতিগুলো শেয়ার করেন। তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পরিবর্তনশীল ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে টিকে থাকতে ধৈর্য, উদ্ভাবন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করে।
অংশগ্রহণকারীরা এই আয়োজনকে একটি অনন্য এবং রূপান্তরকারী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে স্বপ্ন ও বাস্তবমুখী লক্ষ্য এবং নীতিগত আলোচনার সাথে নেটওয়ার্কিং ও অনুপ্রেরণার এক চমৎকার মেলবন্ধন ঘটেছে।
এই সমাবেশ অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় উন্নয়নে নারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরার পাশাপাশি সেবা ও ক্ষমতায়নের মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার রোটারির মিশনকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ব্যতিক্রমী এই সম্মেলন কেবল নারী উদ্যোক্তাদের সাফল্যকেই উদ্যাপন করেনি, বরং সুযোগ সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতের রণকৌশল নির্ধারণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। বিভিন্ন খাতের অংশীজনদের একত্রিত করার মাধ্যমে রোটারি ক্লাব অব ঢাকা ম্যাভেরিক্স এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে যা দুরদর্শিতাকে বাস্তবে রূপান্তর করেছে; যা নারী উদ্যোক্তাদের তাদের ব্যবসাকে শক্তিশালী করতে এবং দেশের অর্থনীতিতে অর্থপূর্ণ অবদান রাখতে ক্ষমতায়ন করবে।
সমতা, উদ্ভাবন এবং জাতীয় অগ্রগতির চালিকাশক্তি হিসেবে নারী মালিকানাধীন এমএসএমই খাতকে সমর্থন করার সম্মিলিত আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়—যা সামাজিক রূপান্তর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অনুঘটক হিসেবে রোটারির ভূমিকাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।