ঋণ নিতে দুর্ভোগে পড়ছেন করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক। তাদের অভিযোগ, ঋণ পেতে হলে দালাল ধরতে হচ্ছে। দালাল কমিশন হিসাবে ঋণের একটা বড় অংশ কেটে নিচ্ছে।
এছাড়া নিয়ম না থাকলেও কোন কোন প্রতিষ্ঠান ঋণের বিপরীতে জমি বা অন্য যেকোন সম্পদ বন্ধক নিচ্ছে। অথচ করোনায় কৃষির ক্ষতি কাটাতে ব্যাংকগুলোকে বার বার বিনা শর্তে ঋণ দেয়ার কথা বলছে সরকার। সেই নির্দেশনাও কেউ মানছেন না।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার হাওরের বিশাল জলরাশির মাঝে একেকটা গ্রাম যেনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। তারই এক হাওরবেষ্টিত ইউনিয়ন- ছাতরা।
সেই গ্রামে ১৪ হাজার মানুষের বাস। বছরের ছয় মাস কাজ। বাকি ছয় মাস অবসর। একদিকে প্রতিকূল পরিবেশ। অন্যদিকে জীবন বাঁচাতে জীবিকার সংগ্রাম। মৎস আর কৃষিই তাদের ভরসা।
তাদেরই একজন রুনা আকতার। বলছেন, কাজ না থাকলেও পেট বাচাঁতে দাদনদার আর এনজিওগুলোর চড়া সুদের ঋণের ওপর নির্ভর করেই কাটছে দিন।
কৃষিতে করোনার ক্ষতি পোষাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা আর কৃষি ও পল্লী ঋণের আওতায় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংক গুলো। যা পেয়েছেন ৩১ লাখ কৃষক।
তবে এসব ঋণের খুব কমই পেয়েছেন হাওরাঞ্চলের কৃষক। ব্যাংকের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ঋণ পাননি এমন কৃষকের সংখ্যা বেশি।
নিকলী উপজেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়ন গুরুইয়ের বাসিন্দা সালেহা আকতার ও তার স্বামী দুজনেই কৃষক। সেই পরিবারটি ঋণ পেলেও বন্দক দিতে হয়েছে ভিটে বাড়ি আর জমি জামানত।
কৃষকরা বলছেন যারা ধাপে ধাপে বখশিশ আর দালাল ধরে ব্যাংকে যেতে পারেন, তারাই ঋণ পান। আর সেটি না করতে পারলে যেতে হয় এনজিও বা দাদনদারের কাছে।
একাত্তর/এআর