ছোট ছোট সাতটি দল নিয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক জোট গণতন্ত্র মঞ্চকে স্বাগত জানিয়ে, একে ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রথম সাফল্য হিসেবে দেখছে বিএনপি।
অন্যদিকে নবগঠিত গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলছেন, তাদের জোটের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপিসহ সব বিরোধীদলের সমর্থন চান তারা।
সেই সঙ্গে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায়, বিএনপিকে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে বলছেন মঞ্চের নেতারা।
বর্তমান সরকারের পতন ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সোমবার সাতটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গণতন্ত্র মঞ্চ নামের একটি নতুন জোট আত্মপ্রকাশ করেছে।
১১ আগস্ট তারা বিক্ষোভ কর্মসূচিও ঘোষনা করেছে। সরকারবিরোধী জোট গঠনে গেলো দু’মাস ধরে বিএনপি যে দলগুলোর সাথে সংলাপ করেছে তার মধ্যে ছয়টি দল এই জোটে আছে।
নতুন এই জোটকে কিভাবে দেখছে বিএনপি, এমন প্রশ্নের উত্তরে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, তারা নতুন জোটকে স্বাগত জানাচ্ছেন।
মঙ্গলবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চের আত্মপ্রকাশকে ‘ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সাফল্য’ হিসাবে দেখছে বিএনপি।
নজরুল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চের আত্মপ্রকাশকে আমরা স্বাগত জানাই। তারা যেসব দাবি উল্লেখ করেছেন, এই দাবিগুলো আমরাও দীর্ঘদিন যাবৎ করে আসছি।
নতুন জোটও বলছে এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। গণতন্ত্র মঞ্চের দাবিতে এসব আছে, সেটা দেখলাম।
বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা বলেন, কাজেই মনে করি, এটা আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের যে প্রয়াস দীর্ঘদিন ধরে আমরা চালিয়ে আসছি, সেটা তার একটা সাফল্য।
বিএনপির এই অবস্থানকেও ইতিবাচক বলছেন, গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা এবং বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কস পার্টির সাধারন সম্পাদক সাইফুল হক।
জোট নেতারা আরও বলেছেন, শুধু সরকার পতন আর সরকার গঠন নয়; মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে বা আলাদা ভাবে চুড়ান্ত আন্দোলন করবে দুপক্ষ।
বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান জানান, তাদের এবং গণতন্ত্র মঞ্চের লক্ষ্য একটাই; সরকার পতণের লক্ষ্যে বৃহত্তর ঐক্য ও বৃহত্তর আন্দোলন।
তিনি বলেন, আমরা হরতাল করি না বা করতে পারি না- তা নয়; কিন্তু যখন তখন করব কেন? আমরা অবরোধ এর আগে করি নাই বা করতে পারি নাই- তা নয়; কিন্তু যখন তখন করব কেন? যখন করার সিদ্ধান্ত হবে, আপনারা জানতে পারবেন।
বিএনপির এই নেতার ভাষায়, জনগণের মধ্যে ‘ক্ষোভ’ কাজ করছে, সে কারণেই বিএনপির কর্মসূচিতে জনগণ ‘সম্পৃক্ত’ হবে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বিএনপি ‘বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম’ গঠনে যাবে কি না- এ প্রশ্নে নজরুল বলেন, আপনারা ভালো জানেন এটা। এই ব্যাপারগুলো আলোচনার মাধ্যমে হয়, শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন।
সরকারের উদ্দেশে নজরুল বলেন, মানুষ যখন ভয় পায়, অন্ধকারের মধ্যে রাত্রে হাঁটতে গেলে জোরে জোরে গান গায়। এটা এই কারণে যে, তারা ভয় পাচ্ছে। ওদের কথায় বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। বড় বিপদে আছে তারা।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি বিদেশ নির্ভর হয়ে পড়েছে। জ্বালানি তেলের পর এবার ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। সব জিনিসের দাম বাড়লেও বাড়ছে না মানুষের আয়।
নজরুল ইসলাম খান আরও অভিযোগ করেন, সুইচ ব্যাংকে কারা টাকা জমাচ্ছে সরকার বলতে পারছে না। অথচ কানাডায় বেগম পাড়ায় বাড়ি করছে সবাই সরকারেরই লোকজন।
আশুরা উপলক্ষে এদিন নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। তার আগে আলোচনা সভা হয়।
একাত্তর/এআর