ডাহা মিথ্যা কথা বললে খারাপ লাগে: মোমেন

‘বৈশ্বিক মন্দায় অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা বেহেশতে আছি’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। একদিন পরই এই মন্তব্যে ব্যাখ্যায় মন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর বক্তব্য সাংবাদিকরা ঘুরিয়ে পরিবেশন করেছে। সেই বিষয় নিয়ে তিনি আবারও কথা বলেছেন।

শুক্রবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের পক্ষে গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সেই মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, নিত্যপণ্যের দামে আমরা খুব কষ্টে আছি। আমাদের জনগণ যথেষ্ট কষ্টে আছে। পণ্যের দাম বৃদ্ধি কোনো ভাবেই অঙ্কে মেলাতে পারি না। শেখ হাসিনার সরকার সাধারণ লোকের বন্ধু।

তিনি আরও বলেন, কেউ কেউ বলছেন, আমার শ্রীলঙ্কা হয়ে যাচ্ছি। আমি সেই প্রেক্ষিতে বলেছি বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হওয়ার মতো কোনো কারণ নাই। আর অন্য দেশের তুলনায় আমরা ভালো আছি। আমি বলেছিলাম যে, আমেরিকা যেখানে বছরে এক কী দুই পারসেন্ট ইনফ্লেশন হয় তার চেয়ে বেশি হয় না, এবারে ৯ পারসেন্ট।

আব্দুল মোমেন বলেন, ইংল্যান্ডেও এক দুই পারসেন্টের বেশি ইনফ্লেশন হয় না, এবার সেখানে গতকাল দেখলাম ১০ পারসেন্ট। আর টার্কির মতো একটা বড়ো অর্থনীতির হয়ে গেছে ষাটের ঊর্ধ্বে। পাকিস্তানের ৩৭ পারসেন্ট। আর প্রতিবেশি শ্রীলঙ্কায় নাকি ১৫০ এর বেশি। সেই দিক থেকে আমাদের সাত পারসেন্ট। সুতরাং আমাদের ওদের তুলনায় অনেক ভালো আছি। সেটাই আমি বলেছি। আর এটাকে তিল থেকে তাল করা হলো।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ আরও করেন, স্বাধীন দেশে আমাদের বাক স্বাধীনতা আছে। তাই যে যা বলে বলতে পারে। কেউ কেউ বলে আমরা নাকি মিডিয়াকে কন্ট্রোল করি। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যায় না। আমি যতোদিন পাবলিক লাইফে আছি আমাকে নিয়ে সমালোচনা হবে, তবে বেশি বেশি ডাহা মিথ্যা কথা বললে খারাপ লাগে।

আমি আরেকটি জিনিস কালকে বলেছি, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুসহ গোটা পরিবারকে হত্যা করার আগে একটা প্রচারণা শুরু হয়েছিল। বলা হলো রেডক্রসের চিফ গাজী গোলাম মোস্তফা নাকি সব কম্বল চুরি করে ফেলেছেন। তখন বঙ্গবন্ধু কৌতুক করে বলেছেন, তাহলে আমার কম্বল কোথায়।

তখন বলা হলো, বঙ্গবন্ধু পরিবারের লোক নাকি ব্যাংক লুট করতে গেছে। তখন বাসন্তী নামে এক নারীর জাল পড়া ছবি দেখিয়ে বলা হলো- এই হলো বাংলাদেশের অবস্থা। এই ধরনে বিভিন্ন রকম মিথ্যা প্রচারণা হয়।

এখনও দেশে-বিদেশে এই মিথ্যা প্রচারণা লেগে আছে। সাংগঠনিকভাবে এই কাজগুলো হচ্ছে। সেই জন্যই আমি বলেছি, আপনারা এ থেকে সাবধান থাকবেন বলেও পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, আমরা সস্তায় সব ঘরে খাবার দিতে চাই। কোনো বিশৃঙ্খলা আমরা দেখতে চাই না। কিন্তু মিডিয়া অনেক সময় অস্থিরতা বাড়ানোর জন্য অনেক বানোয়াট খবর দেয়। এটা খুব দুঃখজনক। বিভিন্ন সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে।


একাত্তর/এসএ