বিএনপির সঙ্গে ফাইনাল খেলা আগামী জানুয়ারিতে: কাদের

আন্দোলনের নামে ঘোড়ার ডিমপাড়া আগুন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আগামী বছরের শুরুতে ভোটের মাধ্যমে ফাইনাল খেলা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। 

রোববার দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শহরের রেলওয়ে অফিসার্স কলোনির ফাইভ স্টার মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সেই খেলায় সব অপরাজনীতিকে পরাজিত করে দেশকে সমৃদ্ধির উচ্চ শিখরে পৌঁছানো হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে জনগণকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা উপহার দেয়া হবে।

এই খেলার জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতি মানুষের জন্য। মানুষের ভালবাসাই হলো আমাদের রাজনীতি। যে ব্যক্তি রাজনীতি করে অথচ জনগণের বিপদে পাশে দাঁড়ায় না, সহযোগীতার হাত বাড়ায় না। তারা কখনই প্রকৃত রাজনীতিক নয়। 

মন্ত্রী আরো বলেন, বিরোধী দলগুলো কথায় কথায় সরকারের পতন ঘটানোর ফাঁকা আওয়াজ দেয়। তাদের সাথে মানুষ নাই। তাই কখনো ২৪ দল আবার কখনো ৫৩ দল নিয়ে মাঠে নামলেও জনগণের সাড়া পায়নি। সে কারণে তাদের হাক ডাকই অসার। ১০ ডিসেম্বর ও ১১ জানুয়ারি অশ্বডিম্ব প্রসব করেছে আগুন সন্ত্রাসী বিএনপি-জামাত। এখন আবার ডান-বাম এক হয়েছে। তাতেও কোনো লাভ হবে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী জানুয়ারিতে নির্বাচনের ফাইনাল খেলায় আবারো আমরা সরকার গঠন করবো। কারণ আমরা কথা রাখি। বঙ্গবন্ধুর মত শেখ হাসিনাও তা প্রমাণ করেছেন। আমরা সকল অপপ্রচার, বদনামের জবাব দেই কাজের মাধ্যমে। যা জনগণ দেখছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশবাসী উন্নয়ন পায়। অন্যরা শুধু লুটেপুটে খায়।

তিনি আরও যোগ করেন, সে কারণে জনগণ বার বার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ চায়। তিনি দেশকে সর্বোচ্চটুকু দিতে চান। সেটা পেতে সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য নৌকাতেই ভোট দিতে হবে। দেশ ও মানুষকে বাঁচাতে শেখ হাসিনার বিকল্প নাই।

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি সম্পর্কে সড়কমন্ত্রী বলেন, আপনারা একটু বিপদে আছেন, আমরাও বিপদে আছি। জিনিসপত্রের দাম একটু বেড়ে গেছে। মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষ, অল্প আয়ের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, এ কথা সত্য কিন্তু এ সংকট আমরা সৃষ্টি করিনি। সংকট সৃষ্টি করেছে বড় বড় দেশগুলো। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা।

তিনি বলেন, আমরা সমন্বয় করতে বাধ্য হচ্ছি। সারা দুনিয়ায় বাড়লে, সমন্বয় না করলে আমরা কী করবো? আমাদের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে বাঁচানো। বড় বড় উন্নয়নের কাজ আমরা নির্বাচনের আগে আর নিব না। যেগুলো চলছে সেগুলো চলবে। মানুষ বাঁচাতে হলে অর্থনীতি বাঁচাতে হবে।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির আদর্শের সঙ্গে আমাদের মিল নেই, মিল থাকার কথাও না কিন্তু জাতীয় পার্টির সঙ্গে আমাদের কৌশলগত মিত্রতা আছে। মহাজোট করে আমরা নির্বাচন করেছি। জোট-মহাজোট এগুলো লাগে। বিরোধী দল তো ৫৪টি করে ফেলেছে, আরও কত যোগ হয় আল্লাহ জানেন।

আরও পড়ুন: নেপালে ৭২ আরোহী নিয়ে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, ৬৮ দেহ উদ্ধার

বিএনপির হুমকি ধামকি নিয়ে উপহাস করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ কচুপাতার ওপর ভোরের শিশির বিন্দু নয় যে, টোকা দিলেই পড়ে যাবে। আওয়ামী লীগ ভিত এ দেশের মাটি আর মানুষের অন্তরে। হৃদয়ে যে নেতা, তাকে হাঁকডাক দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবেন সেটা দিবাস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। সোমবারও আছে আমরা সতর্ক পাহারায় থাকবো। আক্রমণ করবো না, আক্রমণ করলে আমি কি চুপ করে থাকবো? দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ললিপপ খাব?

রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত মানুষদের স্বস্তির ছোঁয়া দিতে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের অংশ হিসাবে আওয়ামী লীগ নীলফামারী জেলা ও সৈয়দপুরের প্রায় তিন হাজার শীতার্ত অসহায় দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করে। সেইসাথে অন্যান্য জেলার প্রতিনিধিদের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ তহবিল থেকে ২৪ হাজার শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়।

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান, সাবেক মন্ত্রী মোস্তাফিজার রহমান ফিজার, আওয়ামী লীগের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, আওয়ামী লীগ নেতা হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া।


একাত্তর/আরবিএস