খালেদা জিয়াকে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুলশানে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন।
শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) দলের চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে বসেন বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতারা। প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন তারা।
এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, ‘খালেদা জিয়া মুচলেকা দিয়ে রাজনীতি ছেড়েছেন’- বৃহস্পতিবার রাতে সংসদে দেয়া আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের এমন বক্তব্য মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি বলেন, এসবের কোনো ভিত্তি নেই। সরকারবিরোধী আন্দোলনে বেহুঁশ হয়ে ক্ষমতাসীনরা মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জনগণকে আমরা আহবান জানাচ্ছি এই আন্দোলনে সবাই যেন শরিক হন এবং সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রকে মুক্তি করার লক্ষ্যে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরও বৃহত্তর ঐক্য সৃষ্টি করে আমরা যেন সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারি সেই ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি’।
সরকারবিরোধী চলমান যুগপৎ আন্দোলন এগিয়ে নিতেই ছিলো এই বৈঠক। নেতারা জানান, মূলত চার ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি নিয়ে তারা বৈঠকে আলোচনা করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ সরকারের পতনের লক্ষ্যে আমরা যে গণআন্দোলন শুরু করেছি, সেই আন্দোলনকে সফলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য গণতন্ত্র মঞ্চ এবং বিএনপি আমাদের পূর্বের কর্মসূচি পর্যালোচনা করেছি। এছাড়া পরবর্তীতে কি কর্মসূচি গ্রহণ হতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা করেছি’।
এদিকে বিএনপির আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতারা বললেন, আন্দোলনকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য। তাদের ঐক্য দৃঢ় হলে পতন হবে বর্তমান সরকারের।
বৈঠকে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আন্দোলনকে ধীরে ধীরে বিজয়ের দিকে নিতে নীতিগত ও কৌশলগত আলোচনা হয়েছে। সেখানে অন্য যেসব দল আছে যারা একসঙ্গে এখনও হয়নি, তাদের কিভাবে একসাথে নিয়ে আন্দোলন করা যায় সে বিষয়ে কথা হয়েছে। ঐক্যকে দৃঢ় করার পাশাপাশি ঐক্যে যেনো ফাটল না ঘটে সেজন্য আলোচনা হয়েছে, সামনের দিকে আন্দোলনকে অভ্যুত্থানের দিকে নিয়ে যাওয়াই মূল উদ্দেশ্য।
আরও পড়ুন: শেখ সেলিম প্রমাণ ছাড়া কথা বলেননি, দাবি কাদেরের
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দলটির লিয়াঁজো কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বরকত উল্লাহ বুলু ও মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল উপস্থিত ছিলেন।