বিএনপি এবার নির্বাচন না এলে আইসিইউতে যাবে: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি এখন খরার কবলে। অসুস্থ হয়ে তারা অচিরেই হাসপাতালে যাবে। তারা এবার নির্বাচন না করলে, আইসিইউতে যাবে। তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান মোতাবেকই হবে।

বিএনপি'র সন্ত্রাস নৈরাজ্য ষড়যন্ত্র অপরাধনীতির বিরুদ্ধে রোববার বিকেলে, রোববার বিকেলে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আবার লাফাতে শুরু করেছেন। নির্বাচন সংবিধান মোতাবেকই হবে। আপনারা কি দিয়ে নির্বাচন প্রতিরোধ করবেন। যে হাত দিয়ে নির্বাচন প্রতিহত করতে আসবেন, ভোট কেন্দ্র ভাঙচুর করতে আসবেন সেই হাত ভেঙ্গে দেওয়া হবে। তাদের মতলব ভালো নয়। তারা এখন উল্টোপাল্টা শুরু করেছেন।

বিএনপির আন্দোলনের গতি এখন কমে গেছে। এমন দাবি করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারা এখন নতুন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ১৯৭৫ আর ২০২৩ এক নয়।

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জোটে ভাঙনের সুর বেজে উঠেছে। ফখরুল সাহেব, আপনার দলও ভাঙব না, জোটও ভাঙব না। আপনারা সংকটে আছেন। আপনাদের জোট তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবে। বিএনপির খেলার দম ফুরিয়ে গেছে। আমরা আন্দোলনেও খেলব, নির্বাচনেও খেলব। সেই তত্ত্বাবধায়ক অস্বাভাবিক সরকার বাংলাদেশে আর হবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এখন খরার কবলে। খরার মধ্যে পড়েছে বিএনপি। অসুস্থ হয়ে অচিরেই হাসপাতালে যাবে। নির্বাচনে না এলে আইসিইউতে যাবে। মির্জা ফখরুল আবার লাফালাফি শুরু করেছে। জনগণ নেই। ঢাল নেই তলোয়ারে নেই নিধিরাম সর্দার।

দলীয় নেতাকর্মীদের কাদের বলেন, প্রস্তুত হয়ে যান, ওদের মতিগতি ভালো না, মতিগতি খারাপ। খারাপ বলেই উল্টাপাল্টা কথা বলতে শুরু করেছে। প্রশ্ন রাখেন, কে আপনাদের উপর হামলা করেছে? তাদের আন্দোলনের গতি যত কমছে, তাদের অভিযোগ তত বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতার রঙিন স্বপ্ন দেখছে। ১০ ডিসেম্বর পল্টনে পাতিলের উপর পাতিল। লাল কার্ড আবার হলুদ কার্ড। আবার কেউ কেউ বলে ১১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া দেশ চালাবে। তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আবার নাকি লন্ডন থেকে যুবরাজ আসবে। হায়রে বাংলাদেশ। হারানো ক্ষমতা ফিরে পাওয়া কঠিন।

বিএনপির আন্দোলনকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সব ভুয়া আন্দোলন। ২২ দফা ১০ দফা দিয়ে কোনো লাভ নেই। পোস্টার-ব্যানার দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায় না বলে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের হৃদয়ে যারা আছেন তারাই নেতা। জনবিচ্ছিন্ন নেতা আমাদের দরকার নেই। কার কেমন জনপ্রিয়তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেই খতিয়ান জমা আছে।

তিনি বলেন, বিএনপি এখন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রোহিঙ্গা নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্র ও গোলমালের চক্রান্ত করছে। আমরা জানি ২০০১ ও ২০২৪ সাল এক নয়। দেশের মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না। বিএনপির আন্দোলন সব ভুয়া আন্দোলন। ২২ দফা ১০ দফা দিয়ে কোনো লাভ নেই।  

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ এমপির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সংসদ সদস্য সাদেক খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক আরাফাত, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফ আলী চৌধুরী সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন বিপ্লব, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ম.ই মামুন প্রমুখ। 


একাত্তর/এসি