সরকার বিনা উস্কানিতে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করছে: ফখরুল

কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই পরিকল্পিতভাবে সরকার দেশে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার নিজে টিকে থাকতেই সংবিধান পরিবর্তন এবং নানা আইন করেছে।

রোববার দুপুরে, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। নওগাঁয় সুলতানা জেসমিনকে হত্যার প্রতিবাদে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা খুব পরিষ্কার করে লক্ষ্য করছি, এই সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিভাবে এই দেশকে একটা সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বিনা উসকানিতে বিরোধী দলের কর্মসূচিতে আক্রমণ করে, আঘাত করে তারা একটা সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চায়।

তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত যেসব কর্মসূচি দিয়েছি তার সবগুলোই শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক। সরকার বারবার সংবিধানের কথা বলে। সেই সংবিধানে তো পরিষ্কার বলা আছে- আমাকে কথা বলার অধিকার দিতে হবে। প্রতিবাদ করার অধিকার দিতে হবে। 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যাবে না? সরকার কি রাষ্ট্র? সরকার কি গড (ঈশ্বর)? সরকার তো গড (ঈশ্বর) নয়। যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, তাহলে অবশ্যই আমার কথা বলব। আপনি তাতে এক মত নাও হতে পারেন।

বর্তমান সরকারের কাছে নারী-পুরুষ, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কেউ নিরাপদ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের (আওয়ামী লীগ) কাছে গণতন্ত্র হচ্ছে- একমাত্র আমিই কথা বলব। তাদের কথা মতোই চলতে হবে। কৃতদাস হয়ে থাকতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেটা হতে দেবে না। 

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। মৌলিক জায়গা গুলোতে তারা সংবিধানকে পরিবর্তন করে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করেছে। বাহাত্তরে যে সংবিধান তৈরি হয়েছিল সেটি ছিল সবচেয়ে গণতান্ত্রিক। পরবর্তী সময়ে সংবিধানে নানা পরিবর্তন এসেছে।


সুলতানা জেসমিনের হত্যাকে ছোট করে দেখার কারণ নেই বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার, যারা গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে, তারা এভাবে হত্যা করে নির্যাতন করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লোকজন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করেছিল। সেই আন্দোলনে তারা ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। আন্দোলনে তারা অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছিল। এর মধ্যে শেরাটন হোটেলের সামনে বাসে গান পাউডার ছিটিয়ে ১১ জনকে হত্যা করেছে। তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলো জনগণের দাবি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন না।

আলোচনা সভায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার যখন বলছে আইনে অনেকগুলো সংশোধন করা দরকার এবং দুটি ধারা বাতিল করা দরকার। তখন তথ্যমন্ত্রী পরিষ্কার করে বলেছেন, এই আইন বাতিল করা হবে না।

আরও পড়ুন: পাঁচ সিটির মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বিক্রি শুরু

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র নেই বলেই কারো অধিকার নেই। এমন একটি সরকার জোর করে ক্ষমতা দখল করে টিকে থাকার জন্য অনেকগুলো আইন তৈরি করেছে। তারা সংবিধানের মৌলিক জায়গাগুলো পরিবর্তন করেছে।

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার, মহিলা দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক নায়েবা ইউসুফ ও দক্ষিণের আহ্বায়ক রুমা আক্তার প্রমুখ।


একাত্তর/জো