যেখানে ভোটের অধিকারই নেই, সেখানে শুধু সিটি নির্বাচনই নয়, কোনো নির্বাচনেই যাবে না বিএনপি। এখন ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ্য বলে ঠিক করেছেন বিএনপির নেতারা।
তারা আরও জানান, ক্ষমতাসীনরা নির্দলীয় সরকারের দাবি না মানলে, আরো কঠোর কর্মসূচি দেবে বিএনপি। আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় হবে মনে মনে করছে বিএনপি।
আগামী ২৫ মে থেকে ২১ জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। পাঁচ সিটি নির্বাচনে কোনটিতেই অংশ নিচ্ছে না বিএনপি।
এমন সিদ্ধান্ত দলের জন্য কতটা ইতিবাচক- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, লাভ-ক্ষতির প্রশ্নই এখন উঠছে না। কারণ মানুষ যেখানে ভোট দিতে পারে না, সেখানে নির্বাচন করে কি লাভ- এমন পাল্টা প্রশ্নও করেন তারা।
আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা তো পরিস্কার করেই বলছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনেই যাবো না। এটি ছাড়া ভোট হলে তা গ্রহনযোগ্য হবে না। এটা বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক দেশও বিশ্বাস করে।
গেলো বছরের ২২ আগস্ট থেকে রমজান মাস পর্যন্ত ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়ন, থানা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে সভা-সমাবেশ করেছে বিএনপি।
এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল আন্দোলনে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা। এখন কি আগের মতোই সভা-সমাবেশেই সীমিত থাকবে আন্দোলন এমন প্রশ্ন রাখা হয় দুই নেতার কাছে।
ফখরুল বলেন, আন্দোলন চলমান আছে। রোজার কারণে কিছুটা শিথিল ছিলো। তারপরও ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আর সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করছে আগামীতে বিএনপির আন্দোলনের ধরন কি হবে। জনগণই ঠিক করবে সব কিছু।
আর, আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এই দলের (আওয়ামী লীগ) সঙ্গে কথা বলে কিংবা নির্বাচনে গিয়ে কোন লাভ হবে না। ভোটে যাওয়ার চাইতে বিএনপির এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা। এই সরকারকে পতন ঘটানোর জন্য জনগণ এখন প্রস্তুত।
বিএনপি এই দুই নেতা আরও জানান, চলতি সপ্তাহেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় চূড়ান্ত হবে নতুন আন্দোলনের কর্মসূচি।
একাত্তর/এআর