গণতন্ত্রের জন্য ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত বিএনপি: ফখরুল

'এই দেশ তরুণদের, নতুন প্রজন্মের। যে গণতন্ত্র হারিয়ে গেছে তা ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব এসে পড়েছে তরুন সমাজের উপর। এ দায়িত্ব তরুণদের নিতে হবে।' এমনটাই বললেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

বর্তমান সরকারের দুর্নীতির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব এসবের ব্যর্থতা মাথায় নিয়ে সরকারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার বগুড়ায় তারুণ্যের সমাবেশ করেছে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সমাবেশে প্রধান অতিতির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, দেশে এখন বিদ্যুৎ নেই। তারা এতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে, কিন্তু তা গেল কোথায়? সব খেয়ে ফেলেছে সরকার। ঢাকায় কার্ড সিস্টেমে বিদ্যুতের টাকা ভরতে হয়। ১০০০ টাকা ভরলে ৩০০ টাকা কেটে নেয়। আসলে সরকারের কোনো তল নেই, শুধু খাচ্ছে আর খাচ্ছে। আমাদের দফা এক দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ।

বিএনপির মহাসচিব সরকারের উন্নয়নের সমালোচনা করে বলেন, ‘কয়েকটা ফ্লাইওভার আর উড়ালসড়ক নির্মাণ করলেই কি উন্নয়ন হয়? মানুষ পেট ভরে খেতে পারলে, বাঁচার নিশ্চয়তা থাকলেই সেটাকে উন্নয়ন বলে।’

আরও পড়ুন: হারের ভয়ে নালিশ ও অপপ্রচারে নেমেছে বিএনপি: কাদের

বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানোর কথা বলেছিলেন, কেউ কি খেতে পেরেছেন? তারা চাকরি দেয়ার কথা বলে চাকরি দিতে পারেনি। এই সরকার দেশকে লুটপাট করছে। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের বারোটা বাজাচ্ছে। 

তিনি বলেন, দড়ি ধরে টান মেরে এই সরকারকে সরাতে হবে।

ফখরুল বলেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে লাভ নেই, দেশে নির্বাচন অবশ্যই হবে তবে তা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। জোর করে পাকিস্তানি হানাদারদের মত ক্ষমতা দখল করে আছে সরকার। গণতন্ত্র হরণ করে মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করেছে আওয়ামীলীগ।

সরকারের পদত্যাগ এখন বিএনপির এক দফা দাবি উল্লেখ করে ফখরুল বলেন রাজপথেই তা আদায় করা হবে।

খালেদা জিয়াকে মুক্তির দাবি জানিয়ে ফখরুল বলেন, ৪০ লাখ নেতাকর্মীর মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। এরপর নির্বাচন, নয়তো এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না।


একাত্তর/এআর