রাস্তা বন্ধ করতে এলে বিএনপির চলার রাস্তাও বন্ধ: কাদের

শনিবার বিএনপি ঢাকার সব প্রবেশ পথ বন্ধ করতে এলে তাদেরও সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুশিয়ার করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, রাস্তা বন্ধ করবেন না, চোখ রাঙাবেন না। আমাদের শেকড় অনেক গভীরে। চোখ রাঙিয়ে আওয়ামী লীগকে উৎখাত করা যায় না। শপথ নিচ্ছি ভাঙচুর করতে আসলে হাত ভেঙে দেবো।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগের তিন সংগঠন আয়োজিত শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে দেশাত্মবোধক গানে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে আওয়ামী লীগের তিন সহযোগী সংগঠন। এরপর বৃষ্টি উপেক্ষা করেই শুরু হয় সমাবেশের বক্তৃতা পর্ব।

সমাবেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণ শেখ হাসিনাকে গণভবনে বসিয়েছে। জনগণ যতো দিন চাইবে শেখ হাসিনা গণভবনে থাকবে। কিছু করতে পারবেন না। ক্ষমতার খোয়াব দেখছেন, একদফা খাদে পড়ে গেছে। এক দফা কোনো দিন ক্ষমতার স্বাদ পূরণ করতে পারবে না। জানমালের নিরাপত্তায় অতন্দ্র প্রহরী হয়ে থাকবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

তিনি বলেন, যতো লাফালাফি করেন, তাফালিং করেন, কোনো লাভ হবে না। ক্ষমতার ময়ূর সিংহাসন বহুদূরো চলে গেছে। রাজনীতির খেলায় আওয়ামী লীগকে কেউ হারাতে পারবেন না। রাজনীতির খেলায় আওয়ামী লীগ চ্যাম্পিয়ন

কাদের বলেন, চোখ রাঙাচ্ছেন? চোখ রাঙানির দিন শেষ হয়ে গেছে। শেখ হাসিনাকে গণভবন থেকে হটানোর হুমকি দিচ্ছেন আমরা কী ললিপপ চুষবো?

সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি গাজী মেসবাউল হোসেন বাচ্চু বলেন, ভিন্ন কিছু চিন্তা করে লাভ নাই। বিএনপিকে রাজপথেই ফয়সালা করতে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগই যথেষ্ট।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, শিক্ষাঙ্গণকে কিলিং মিশনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করার ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি। যারা অনির্বাচিত সরকারের তাবেদারি করবে তাদের প্রতিহত করবে ছাত্রসমাজ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমরা জানি কীভাবে বিএনপি-জামায়াতের অপরাজনীতিকে রুখতে হয়। আমরা শান্তি চাই, নৈরাজ্য চাই না। শান্তি ও নির্বাচনের একদফা আন্দোলন চলবে। বিনষ্ট করার কোনো ক্ষমতা বিএনপি-জামায়াত অপশক্তির নেই।


আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, জঙ্গিবাদের দেশ, দুর্নীতির বাংলাদেশ করেছিলো বিএনপি-জামায়াত। এক এগারোর স্বপ্ন যারা দেখছে তারা বাংলাদেশকে নিয়ে আবারও খেলছে। কোনো সমাবেশের আগে বিশেষ একটি দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মিটিং করে বিএনপি। কারণ তারাই দেশকে নিয়ে খেলছে। দেশের জনগণ সে খেলা বাস্তবায়ন করতে দেবে না। যে কোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেবে ছাত্র, তরুণ যুব সমাজ। যেকোন অপরাজনীতি রাজপথে মোকাবেলা করা হবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, পলাতক আসামি তারেকের ইশারায় বিএনপি নৈরাজ্য করতে মাঠে নেমেছে। বিএনপি কখনওই নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। বিএনপি জানে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই নৈরাজ্য করতে মাঠে নেমেছে। বাংলার মানুষ আবারও শেখ হাসিনাকে ম্যান্ডেট দিয়ে ক্ষমতায় আনবে। একদিকে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য প্রতিহত করতে হবে। অন্যদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। বিএনপিকে জনমের মতো শিক্ষা দিতে হবে যাতে তারা পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে না পারে।

দলটির প্রেসিডিয়ারম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। নির্বাচন বানচাল করে একটি অনির্বাচিত ভূতুরে সরকার প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপির লক্ষ্য।


জিয়াউর রহমান ২৪ ঘণ্টা কার্ফু দিয়েছে। ২০০১ এ ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও হিন্দুদের হত্যা, লুটপাট করেছে। আগুন দিয়ে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে তারাই এখন গণতন্ত্রের সবক দেয়।

তারেক রহমান এখন লাদেন রহমানে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আগস্ট মাস এলেই বিএনপির রক্তপীপাসা জাগে। সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি নির্বাচনের নামে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। বিএনপি আবার রাজপথে নামলে জনগণ আতংকিত হয়।

২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার পূর্ণিমা বলেন, কোথায় ছিলো তারেক রহমানের সুন্দর মুখের বুলি, যখন ২০০১ এ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি নেতাকর্মীরা পাশবিক নির্যাতন করেছিলো।  হিন্দু পরিবারগুলোকে যাদের নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে হত্যা করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছিলো, আগুন দিয়ে বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। সেই বিভিসীকাময় পরিস্থিতিতে আর ফিরে যেতে চাই না আমরা।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগ বিএনপির উদ্ভট দাবি। লাগাতার আন্দোলন করলে বিএনপিকে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

দলটির সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, শেখ হাসিনার দিকে চোখ তুলে তাকালে তার চোখ রাখা হবে না। আজ বিএনপির বিরুদ্ধে তারুণ্য, যুব, ছাত্রসমাজ জেগেছে। 

তিনি তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, সাহস থাকলে দেশে আসেন। দেখবো আপনার মুরোদ। বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষে, সন্ত্রাসের পক্ষে না।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ার সদস্য শাজাহান খান বলেন, হাওয়া ভবন, খোয়াব ভবন আর বাংলাদেশে হবে না। ভণ্ডামি আর দুর্নীতি বিএনপির দুই নীতি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে খুন করেছে, ক্ষমতার বাইরে থেকেও খুন করেছে। তাই বিএনপির হাতে দেশ নিরাপদ নয়

কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সরকার সর্বাত্মক সহায়তা করবে। যারা বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। বিএনপির সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে ছাত্র, যুব, তরুণরা।  আগামীতেও সরকারের পতন হবে না। যে কবরে পড়েছেন, সেই কবর থেকে উঠতে পারবেন না।


একাত্তর/এসি