পুলিশ ও বিচারকরা আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাদের
ভাষায় কথা বলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন।
শনিবার বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে হবিগঞ্জ,নারায়নগঞ্জ ও ঢাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে বিএনপি। বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন,এসব কর্মসূচিতে গুলি করে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। গুলশানে
মির্জা ফখরুল বলেন. ‘২০১৪ ও ১৮ সালের মতো অপকৌশল নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ। যার প্রধান সহযোগী পুলিশ প্রশাসন। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী দলে পরিণত হয়েছে। পুলিশ এই অবৈধ সরকারের নির্দেশে সন্ত্রাসী কাজ করছে। এটাকে আমরা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলি।’
পুলিশ ও বিচার বিভাগ এখন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনে প্রধান সহায়ক হিসেবে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাক্ষীর দিন আসলে বিচারক বলছে, তাকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে এসে সাক্ষী দেওয়াও। এই একটা ভয়াবহ অবস্থা চলছে। একদিকে পুলিশের নির্যাতন। আরেকদিকে বিচারকদের দ্রুত সাজা দেয়ার যে ভয়াবহ কর্মসূচি তারা গ্রহণ করেছে। লক্ষ্য তাদের একটাই। আমি আগেও বলেছি। তারা পুরো মাঠ একবারে খালি করে দিতে চায়।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে সরকার নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য বিরোধী পক্ষকে নির্বাচনে অযোগ্য এবং নেতাকর্মীদের নির্বাচনী মাঠ থেকে তথাকথিত আইনি প্রক্রিয়ায় বিতাড়িত করার সব অপকৌশল গ্রহণ করে চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হবিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে গুলি, টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে শত শত নেতাকর্মীকে আহত করেছে।
ছাত্রদলের নেতাদের গ্রেপ্তার করে জং ধরা পুরনো অস্ত্র দেখিয়ে বিএনপির উপর দায় চাপানোকে দলীয় পুলিশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘কোন প্রাগৈতিহাসিক আমলের অস্ত্র দেখলেই বুঝতে পারবেন। ডিবি বলছে, বিএনপি নির্বাচন বানচাল করার জন্য অস্ত্র জোগাড় করছে। তারা পুরোপুরি পলিটিক্যাল কথা বলছে।’
সরকারকে হুশিয়ার করে মির্জা ফখরুল বলেন; হত্যা গুম খুন ও গুলিবিদ্ধ করে বিএনপির গণতন্ত্রকামী নেতাকর্মীদের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।
সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সহিংসতার দিকে যাচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, সরকার কী চায় তার ওপর নির্ভর করবে। আমরা যে দাবি করেছি সরকারকে সেই দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার নিজেরা সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করছি।
একাত্তর/কেএসএইচ