রাজপথেই সব কিছুর ফয়সালা: বিএনপি

বর্তমান সরকার শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না। তাই সরকারের পতন ঘটিয়েই নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করবে বিএনপিসহ আন্দোলনে থাকা সব গণতান্ত্রিক দল। এমন মন্তব্য করে বিএনপি নেতারা বলেছেন, রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই সবকিছুর ফয়সালা হবে। 

রোববার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের কাঠামো নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)। 

এতে বিএনপি নেতারা বলেন, সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নিবাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের বিকল্প নাই। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না তার প্রমাণ ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচন।

বিএনপি নেতারা বলেন এবার বিনা ভোটে ক্ষমতা দখল করতে গেলে গণতন্ত্রান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে, যার দায় নিতে হবে আওয়ামী লীগ নেতা-মন্ত্রীদের। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশে-বিদেশে সবাই বলছে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সেজন্যই ৩৯টি রাজনৈতিক দল রাজপথে আন্দোলন করছে, আর গণতান্ত্রিক বিশ্ব ভিসা স্যাংশনসহ বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যাবার পর যে রাজনীতি আসবে সেটি ভিন্ন রাজনীতি হবে। সেজন্য বিএনপি কাঠামোগত সংস্কার তৈরি করবে। বিএনপি শুধু শেখ হাসিনাকে সরানোর জন্য নয়, সবার অংশগ্রহণে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছে। 

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে না গিয়ে যেভাবে বক্তব্য রাখছে তাতে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা করা যায় না। আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা সুষ্ঠু নির্বাচন করবে সেই আশা করা বোকার স্বর্গে বাস করা ছাড়া কিছু নয়। তাই ফয়সালা হবে রাজপথে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। পুলিশ, বিচারক, আমলা দলীয় বক্তব্য দিচ্ছেন। সাংগঠনিক কাঠামোকে সংস্কার করা প্রয়োজন। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ১২টি প্রতিষ্ঠান বাজার নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও কোনো ফল আসছে না।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে পরিচ্ছন্ন করার আশা করলেই হবে না। এরপর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কারে গুরুত্ব দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মমিনুল আমিন, এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু  উপস্থিত ছিলেন।