নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ‘এক্সপার্ট গ্রুপ’ পাঠাবে ইইউ

বাজেট স্বল্পতার জন্য বাংলাদেশের আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার জন্য পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছিলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ‘ছোট আকারের বিশেষজ্ঞ দল’ পাঠাবে বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে জানিয়েছে ইইউ।

রোববার বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলির বাসভবনে এক বৈঠকের পর সাংবাদিকেদের এ কথা জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান।

রোববার বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে প্রায় দেড়ঘণ্টার বৈঠক হয়। বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূতসহ ইইউভুক্ত ১০ টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন ফারুক খান। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য তারানা হালিম, নির্মল চ্যাটার্জী, আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্য সোহরাব হোসেন, তারিক হাসান সমী, খালেদ মাসুদ আহমেদ।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকেদের ফারুক খান বলেন, ‘ইইউ এটা ঘোষণা করেছেন যে, তারা একটা ছোট আকারের এক্সপার্ট গ্রুপ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার জন্য পাঠাবে।’

আগামী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান ইইউ জানতে চেয়েছে বলে জানান ফারুক খান। তিনি বলেন, কী চিন্তায় অগ্রসর হচ্ছে তা জানতে চেয়েছে ইইউ সদস্যরা। আমরা বলেছি আমাদের সংবিধানের অনুযায়ী কিছুদিনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন তাদের তফসিল ঘোষণা করবে। আমরা তফসিল মোতাবেক নির্বাচন করব।

ফারুক খান বলেন, আজকের আলোচনা মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, যে তারা বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, আমরা যে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চাচ্ছি সেটাই তারা চাচ্ছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা কী কী করবো সেটাও তারা জানতে চেয়েছে।

বিএনপির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে বলে জানান আওয়ামী লীগের এ নেতা। তিনি বলেন, তবে আমরা বিএনপির একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল, তারা আগামী নির্বাচনে আসবে বলে আমরা আশা করি।

তবে সংলাপের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান আওয়ামী লীগের এই সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য।

ফারুক খান বলেন, আগামী নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করলে দেশকে কীভাবে চালাবো সে বিষয়টিও জানতে চেয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরা। সে বিষয়ে তাদেরকে আমরা অবগত করেছি। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সেই প্রশ্নের উত্তর তারা পেয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার কী রকম হবে তারা জানতে চেয়েছেন। আমরা তাদেরকে ব্যাখ্যা করে বলেছি, যে আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দুইটা দিক থাকবে। প্রথম অংশে, গত নির্বাচনে আমরা যে ইশতেহারে যে কমিটমেন্ট ছিলো, সেই কমিটমেন্ট কতটুকু আমরা পূরণ করেছি তার কথা জনগণকে জানাবো।

ফারুক খান বলেন, আগামী পাঁচ বছর আমরা কী করতে চাই সেটা ইশতেহার থাকবে। আমাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে, তারা এটা নিয়ে কাজ করছেন। সে কাজ শেষ হলে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সেটি প্রস্তাবিতভাবে উপস্থাপন করা হবে, বৈঠকে পাস করা হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা জনগণকে জানিয়ে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষা নিয়ে কী চিন্তা ভাবনা করছি। বর্তমানে যে অর্থনৈতিক সঙ্কট সেটা নিয়ে আমরা কী চিন্তা ভাবনা করছি। এই বিষয়গুলো বৈঠক আলোচনা হয়েছে। আমি মনে করি সবচেয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

ফারুক খান বলেন,  আমাদের খুব ভালো মিটিং হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ যেই ৫০ বছরের ডিপ্লোম্যাটি সম্পর্ক তা খুবই চমৎকার। কিছুদিনের মধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ব্রাসেলসে যাচ্ছেন। সেখানে আমাদের মধ্যে পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট হবে। এ কথাগুলো তারা বৈঠকের প্রথমেই বলেছেন।