বিএনপির সমাবেশ: ২৫ আনসার আহত

রাজধানী ঢাকা শহরে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা গুরুতর।

বিএনপি ও জামায়াতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে আনসার মোতায়েন করা হয়েছিলো। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা রক্ষায় আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

আনসার সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে আনসার সদস্যরা দুষ্কৃতকারীদের হামলায় শিকার হন। এতে ২৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর।

সংঘর্ষের সময় কাকরাইল মোড়ে কর্তব্যরত আনসার হোসেন আলী আক্রমণের শিকার হন। তার চোখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রচণ্ড আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

কমলাপুরে বিআরটিসি বাস ডিপোতে কিছু দুষ্কৃতকারী ঢুকতে চাইলে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা বাধা দেয়। এতে আনসার সদস্যদের উপর হামলা করে দুষ্কৃতকারীরা। এতে একজন আনসার সদস্য ইটের আঘাতে আহত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ডিপো রক্ষার্থে ও নিজেদের জীবন বাঁচাতে আনসার সদস্যরা শটগান থেকে গুলি ছুড়লে দুষ্কৃকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

পল্টনে দুষ্কৃতিকারীরা ইট-পাটকেল নিয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উপর হামলাকালে সেখানে বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে আনসার মো. সুমন আলী বুকে মারাত্মক আঘাত পান।

এদিন ১০০ জনের একটি আনসার ব্যাটালিয়ন কোম্পানি রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স-এ অবস্থান করে বিভিন্ন গেট এর নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলো। বিকাল পৌনে পাঁটার দিকে আন্দোলকারীরা একটি বাসে আগুন লাগিয়ে দেয়। সাথে সাথে প্লাটুন কমান্ডার মো. লতিফ হোসেনের নেতৃত্বে ব্যাটালিয়ন সদস্যরা গেটের নিরাপত্তা জোরদার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

ঢাকা মহানগর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ডিএমপি পুলিশকে সহায়তা জন্য বিভিন্ন পদবীর ১০০০ জন ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য এসএমজি, রাইফেল, শটগান, প্রয়োজনীয় সংখ্যক গোলাবারুদ ও রায়ট গিয়ার এবং ৫১২ জন অংগীভূত আনসার সদস্য শটগান, প্রয়োজনীয় সংখ্যক গোলাবারুদ ও রায়ট গিয়ারসহ মোট এক হাজার ৫১২ জন সদস্য স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় ছিলো। এর মধ্যে ১০০ জনের একটি আনসার ব্যাটালিয়ন কোম্পানি রাজারবাগ পুলিশ লাইনের পাঁচটি গেটে দায়িত্ব পালন করেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিট্রন এলাকায় ৬৮৩টি গার্ডে ১৩ হাজার ২৭১ জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৪০০ জন বিভিন্ন থানায় মোতায়েন রয়েছে।

শনিবার সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিএনপি ও জামায়েতের কর্মীদের। ওই সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৮ সাংবাদিকসহ শতাধিক মানুষ।

সংঘর্ষের মধ্যে বিএনপির সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। পরে রোববার দেশব্যাপী হরতাল ডাকে দলটি। সন্ধ্যার পর যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতও হরতাল ডাকে।

এদিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাববেশ করবে বলে জানিয়েছে। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।