অবরোধে বাসে আগুন দেয়া হচ্ছে যে কারণে

বিএনপি-জামাতসহ সমমনা দলগুলো ডাকা দ্বিতীয় দফার ৪৮ ঘণ্টা অবরোধের দ্বিতীয় দিন চলছে। সোমবার সকাল থেকে অবরোধ উপেক্ষা করে রাজধানীর সবগুলো সড়কেই চলাচল করছে যানবাহন। বাইরের জেলা শহর থেকে একই ধরনের খবর আসছে। ঢাকার প্রধান প্রধান সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচলও বেড়েছে। 

বিএনপির গত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে। এ অবস্থায় যেকোনও ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হার্ডলাইনে থাকবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু এরপরও থেমে নেই নাশকতা। সুযোগ পেলেই যানবাহনে আগুন দেয়া হচ্ছে।

রোববার রাতে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে একটি প্রাইভেট কারে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর, কারওয়ান বাজার এলাকায় আরেকটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেয়া হয়। সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্লবীতে শিকড় পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনায় প্রমাণ হয়, রাতের আঁধারে আগুন দিয়ে সকালের কর্মজীবীদের মনে ভয় ধরানো। 

বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা ফের ৪৮ ঘণ্টা (৫ ও ৬ নভেম্বর) অবরোধ কর্মসূচির আগেই শনিবার সন্ধ্যায় ও রাতে রাজধানীর আলাদা স্থানে পরপর চারটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। রোববার সকাল ৬ থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দুটি বাসসহ একটি মিনি ট্রাকে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এরমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস রয়েছে। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলামোটরে একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। প্রশ্ন উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সতর্কতার পরও এত গাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে কীভাবে?

সোমবার অবরোধের দ্বিতীয় দিনে রাস্তাঘাট ছিলো তারপরেও অনেকটা স্বাভাবিক। ড্রাইভার ছাড়া নিজে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন সেজান। তিনি বলেন, দশ দিনের জন্য দেশে এসেছি। এসে এরমধ্যে পড়েছি। দিনের পর দিন বাড়িতে বন্দি করে রাখা এটা কেমন রাজনীতি? 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথমে ৭২ ঘণ্টা তারপর ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ ঘোষণা করে দায় সারছে বিএনপি। তাছাড়া মাঠেও নেই তারা। শুধু জ্বালাও পোড়াও করে ভয় দেখিয়ে অবরোধ পালনে বাধ্য করছে। একের পর এক বাস পুড়িয়ে বাস্তার স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্ন করতে চেষ্টা করছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিরোধের জায়গায় জনসচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে না পারলে চোরাগোপ্তা হামলা ঠেকানো যাবে না। একই সঙ্গে পুলিশের টহল আরও জোরদারের কথা বলছেন তারা।

র‍্যাব জানিয়েছে, গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম চলমান থাকবে। কেউ যদি কোনও ধরনের নাশকতা কিংবা সহিংসতার পরিকল্পনা করে, সঙ্গে সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‍্যাবের স্পেশাল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স রিজার্ভ রাখা হয়েছে।