খালেদাকে বিদেশে পাঠাতে প্রধানমন্ত্রীকে ভলকার তুর্কের চিঠি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

গত ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে এই চিঠি পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

ভলকার তুর্কের চিঠির বরাত দিয়ে এএফপি বলেছে, চিঠিতে মানবাধিকার সংস্থার প্রধান বলেছেন, আমি তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আপনার (শেখ হাসিনা) সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, যাতে তিনি দেশের বাইরে জরুরি ও বিশেষ চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন।

চিঠিতে বলা হয়, খালেদা জিয়ার মুক্তি দুই পক্ষের ‘রাজনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতার’ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

গত ৯ অগাস্ট থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। লিভার জটিলতা, কিডনি সমস্যা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা রোগে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন তিনি।

এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।

মেডিকেল বোর্ড সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়ার লিভারের চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়। দ্রুত বিদেশে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে তার লিভার প্রতিস্থাপন জরুরি হয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরো ছয় মাস বৃদ্ধি করে সরকার। এরপর তাকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি চেয়েছিলো তার পরিবার। কিন্তু সরকার সে আবেদনে সাড়া দেয়নি।

সরকারের ভাষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার ক্ষমতাবলে সরকার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রেখে তাকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছিলো। সেটা চলমান থাকা অবস্থায় তাকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। এখন খালেদা জিয়া কারাগারে ফিরে গিয়ে বিদেশে চিকিৎসার জন্য আপিল বিভাগে আবেদন করতে পারেন। কিংবা দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছেও ক্ষমার আবেদন করতে পারেন।  

সরকার খালেদার জিয়ার পরিবারের আবেদনে সাড়া না দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিন চিকিৎসক আসেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসার জন্য। তাদের নেতৃত্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের যকৃতের নালিতে অস্ত্রোপচার হয়।

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়া এবং দেশের বাইরে না যাওয়ার শর্তে ২০২০ সালের মার্চে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে ‘নির্বিচার বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ কাউকে আটক করা থেকে বিরত থাকতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এভাবে আটক করা হলে তা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।