ইসি-সরকারের আশ্বাসে নির্বাচনের অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত: চুন্নু

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারি মহলের (ইসি) আশ্বাসে জাতীয় পার্টি (জাপা) দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

চুন্নু বলেন, জাতীয় পার্টি নিজস্ব রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে চলছে। দলীয় সিদ্ধান্তেই জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাচ্ছে। আমরা নিরপেক্ষ ভোটের একটি পরিবেশ চেয়েছি। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বিভিন্ন মহল আমাদের আশ্বস্ত করেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তারা বলেছে, যেকোন মূল্যেই নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখবে। তারা জানিয়েছেন, ভোটাররা কেন্দ্রে এসে অবাধে ভোট দিতে পারবেন। এই আশ্বাসের জন্যই আমাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণায় দেরি হয়েছে।’

সাবেক সেনাশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের গড়া দল জাতীয় পার্টি ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে।

এরপর গণ-আন্দোলনে এরশাদের পতনের পর দুর্বল হয়ে পড়ে জাপা। তবে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে গত প্রায় চার দশক বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এরশাদ কারাগারে থাকা অবস্থায় ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৫ আসন পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে আসে দলটি। 

১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২ আসন পায় জাতীয় পার্টি। ওই নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের সরকার গঠনে জাতীয় পার্টি সমর্থন দিয়েছিলো।

এরপর ২০০৯ ও ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অংশ হয়ে জাতীয় পার্টি ভোটে অংশ নেয়।

২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মহাজোট থেকে বেরিয়ে নিজেদের মতো নির্বাচন করে ২২টি আসন পায় জাতীয় পার্টি।

দশম (২০১৪) ও একাদশ (২০১৮) সংসদে প্রধান বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করেছে জাতীয় পার্টি।

এবার তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও প্রস্তুতি নিয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে দলটি। সবশেষে বুধবার এককভাবে নির্‌বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয় দলটি।

দলের মহাসচিব বৃহস্পতিবার সাংবাদিদের বলেন, তার দলে কোনো বিভেদ নেই। চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের নেতৃত্বে দল ঐক্যবন্ধ আছে।

তিনি বলেন, রওশন এরশাদ আমাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সম্মানের পাত্র। তিনি নির্বাচন করলে তার জন্য আমরা সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবো। তিনি ২০ নভেম্বর ফোন করে মনোনয়ন ফরম নেয়ার কথা বলেছেন, লোক পাঠালেই আমরা তার মনোনয়ন ফরম দিয়ে দেবো।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টি মহাসচিব বলেন, জাতীয় পার্টি তিনশো আসনেই নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে। কারন, কোন জোটে যেতে আমরা নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেইনি। রাজনীতিতে বিভিন্ন কৌশল থাকে। আমরা আমাদের নিজস্ব কৌশল নিয়ে এগিয়ে যাবো।

চুন্নু বলেন, আমরা চাই নির্বাচনকালীন কেউ অনিয়ম করলে নির্বাচন কমিশন যেনো তার বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারে। নির্বাচন কমিশন যেভাবে তফসিল ঘোষণা করেছে, তাতে সংলাপের সুযোগ আছে। সবাই এক টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারবে।

এদিকে এ পর্যন্ত জাপা এক হাজার ৫১০টি মনোনয়ন ফরম বিতরণ করেছে ।