আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ প্রায় সব সংসদীয় আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও জোটের প্রার্থীদের সঙ্গে আসন সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ।
সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, ‘মনোনয়ন দিলেও জোটের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। কোন জায়গায় কীভাবে করা হবে সেটি যেহেতু ঠিক করা হয়নি, সেজন্য সব আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’
এর আগেও সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে যেভাবে পরে সমন্বয় করা হয়েছিল সেভাবেই এবার পরে জোটের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান হাছান মাহমুদ।
গত ১৫ নভেম্বর আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদদের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। ভোট অনুষ্ঠিত হবে ৭ জানুয়ারি।
তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর।
তফসিল ঘোষণার পর দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দলগুলো ভোটে অংশ নেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে তফসিল প্রত্যাখ্যান করে সরকার পতনের এক দাবিতে সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি।
মনোনয়ন ফরম বিতরণ করে তা যাচাই বাছাই করে রোববার ২৯৮টি সংসদীয় আসনে দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ।
জোটের সঙ্গে সমন্বয় হলে কোন কোন ছাড়া হবে তা অবশ্য দলের পক্ষ থেকে এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত হওয়া ১৪ দলীয় জোট। এই জোটে রয়েছে- জাসদ (ইনু), সাম্যবাদী দল, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাপ, গণআজাদী লীগ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, বাসদ, তরিকত ফেডারেশন এবং জেপি।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর ১৩টি আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। শরিকদের অনেকেই লড়েন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে।
এবারের ভোটেও নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটগতভাবে ভোট করার কথা জানিয়ে ১৪ দলের ছয়টি দল নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে।
১৪ দলের সঙ্গে জাতীয় পার্টিসহ আরও কয়েকটি দল নিয়ে মহাজোট গড়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি ভোট বর্জন করায় জোট গঠনের প্রয়োজন হয়নি।
তবে ২০১৮ সালে বিএনপি আবার নির্বাচনে ফিরলে জোটগতভাবেই ভোট করে আওয়ামী লীগ।
জোট গঠনের বিষয়ে শনিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৪ দলীয় জোটের চেয়ারম্যান আমাদের নেত্রী (শেখ হাসিনা)। এখানে শরিক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আমাদের এখনো হয়নি।
‘শরিকদের আসলে আমাদের প্রয়োজন আছে কিনা,’ প্রশ্ন তোলেন কাদের। বলেন, ‘কারণ, জোটের বিপরীতে জোট হয়। এখানে আমাদের প্রতিপক্ষ যদি একটা বড় জোট করে, সেটার বিপরীতে আমাদের বড় জোট হবে।’
‘তাছাড়া আমরা কেন কেন অহেতুক জোট করতে যাবো। প্রয়োজন না থাকলেতো জোট করবো না।’
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন,২০০৮ সালেও আমরা জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করেছিলাম, সেবারও কিন্তু প্রায় ৩০০ আসনে নমিনেশন দেওয়া হয়েছিল। পরে মহাজোটের মধ্যে সমন্বয় করা হয়েছিল।